খাগড়াছড়িতে ঘরে ঘরে জ্বর

NewsDetails_01

খাগড়াছড়ির প্রায় প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাইরাস জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়েছে৷ গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলা জুড়ে এ অবস্থা চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চিকিৎসকদের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে ভীড় জমাচ্ছেন। ডাক্তাররা বিভিন্ন পরিক্ষা দিলেও পরিক্ষাতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও করোনা কোনটাই ধরা পরছেনা।সাধারণ জ্বরের রোগীর সংখ্যাই বেশি৷ তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে এসব জ্বর ছড়িয়ে পরছে বলে মনে করছে অনেকে৷

ডাক্তাররা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে জ্বর সর্দিতে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফার্মেসী গুলোতে বাড়ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা। পরিবারের একজন অসুস্থ হলে বাকি সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি আবদুল জলিল’র মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা মীম। বয়স প্রায় চার বছর৷ টানা এক সপ্তাহ জ্বরে আক্রান্ত ছিলো। মাঝখানে দুইদিন জ্বর কম থাকলেও ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে হঠাৎ করে জ্বর ১০২ ডিগ্রি হয়ে যায়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও করোনা পরিক্ষা করালেও কোন রোগ ধরা পড়েনি। ডাক্তারের পরামর্শে সাধারণ জ্বরের ঔষধ সেবন করে সে এখন কিছুটা সুস্থ। তবে সে কিছুটা সুস্থ হলেও তার মা ও নানী সহ পরিবারের বাকি সদস্যরা জ্বরে আক্রান্ত।

NewsDetails_03

তার মতো জেলার প্রতিটি উপজেলায় এমন রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারো খুসখুসে কাশি, কারো নাক দিয়ে পানি ঝড়ছে, কারো আবার হাত পায়ের জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা। কেউবা আবার কাশিতে বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছে। এ রোগে বিশেষ করে শিশু,বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হলেও গড়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি।

চিকিৎসকরা জানান, গলাব্যথা, খুসখুস ভাব, নাক বন্ধ বা অনবরত হাঁচি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে চিকিৎসা করাতে হবে। উপসর্গে সাইনাস, টনসিলে প্রদাহ হতে পারে। সতেজ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে আদা-লং-এলাচ-লেবু চা, তুলসী পাতা, মধু ও লেবুর রসসহ দেশীয় ফলের রস পান করার জন্যও বলা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাস বলেন, এবছরের এ সময়টাতে এমন রোগ হয়। তাছাড়া আবহাওয়া মানিয়ে নিতে কিছুদিন সময় লাগবে। এরপর ঠিক হয়ে যাবে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য ভোরে ফ্যানের ভলিয়ম এবং এসি কমিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া যেহেতু শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে- এ কারণে শিশুদের প্রতি মায়েদের আরও বেশি যত্নবান হতে হবে।

আরও পড়ুন