খাগড়াছড়িতে দল গোছাতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

চাঙা তৃনমূলের রাজনীতি

গত দুই বছর সারাদেশে করোনা সংক্রমণে দলীয় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির নেতৃত্বে খাগড়াছড়িতে ফের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে জেলাজুড়ে একের পর এক কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরাও চাঙা। তাদের প্রত্যাশা—সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যোগ্যতা অনুযায়ী দলীয় পদ-পদবিও পুনর্বণ্টন হবে।

তবে জেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা ক্রমশ বাড়লেও পিছিয়ে পরেছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় ঝিমিয়ে পরার অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনগুলোর।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার নির্দেশনা পাওয়ার পর চলতি বছরের মে মাস থেকেই সংগঠন পুনর্গঠনে মাঠে নামতে পারে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর চলছে ঘরোয়া বৈঠক, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময়।গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের উপস্থিতিতে খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের তৃনমুল প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক বৈঠকে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের আওতাধীন ৯ উপজেলা ও ৩ পৌরসভার সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে গোছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার কোনওভাবেই পেছনে ফিরে আসার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীই ঐক্যবদ্ধ।
অপরদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ঘর গোছাতে তৎপর জেলা বিএনপি। দলটির নেতারা চাইছেন—ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর ও উপজেলা কমিটিগুলো দ্রুত গঠনের মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা করতে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করার মিশন নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে রমজানের আগে থেকেই থানাভিত্তিক কর্মীসভা চলছে।

গত মাসে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষনেতাদের কয়েক দফা বৈঠকের পর দলের জেলা কমিটির নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নেতারা চাইছেন—ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর ও উপজেলা কমিটিগুলো দ্রুত গঠনের মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা করতে।

দলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার কারণে জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন পর আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। তৃণমূলকে গোছানোর অংশ হিসেবে প্রতি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে মতবিনিময় সভা। সংগঠনকে কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়—সেসব নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা।

কেন্দ্রের নির্দেশনার পাশাপাশি জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন—নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যেকোনও সময় মাঠে নামার ডাক আসতে পারে। সে জন্য আগেভাগে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রাখতে চাইছেন জেলা বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন—দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূলকে সংগঠিত করার বিকল্প নেই।

তবে করোনার ধকল কাটিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দল মাঠে সক্রিয় হওয়ায় মুখর হয়ে উঠছে খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গন। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দুই দলের নেতাকর্মীরা।
দুই দলের একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন কমিটি না দেওয়ায় সক্রিয় রাজনীতি করার পরও অনেকে এতদিন পদ-পদবির বাইরে ছিলেন। নতুন করে এসব ইউনিটে সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে চাঙা খাগড়াছড়ির রাজনীতি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।