খাগড়াছড়িতে সেচ্ছাসেবক দলের ৪ নেতা বহিষ্কার

৬ পর্যটককে অপহরণ

খাগড়াছড়িতে ঘুরতে আসা ৬ পর্যটককে অপহরণের দায়ে সেচ্ছাসেবক দলের ৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এ সিদ্ধান্ত ক্রমে দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ছয় পর্যটককে অপহরণ ও চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট পাওয়ায় (শুক্রবার) রাতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দলের কাউকে তাদের সাথে কোন প্রকারের যোগাযোগ না রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ (বুধবার) ঢাকা মেট্রো-ঘ (১৩-৬৭৯৮) নম্বর প্রাইভেটকার নিয়ে ছয় বন্ধু ঘুরতে এসে খাগড়াছড়ির মাউন্ট ইন হোটেলে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি হোটেলে তাদের খোঁজ করলে বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়।

অদ্য সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে তারা রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে মোটর সাইকেল ও সিএনজি দিয়ে কয়েকজন অপহরণকারী গাড়ি থামিয়ে তিনজনকে মোটরসাইকেলে এবং দুইজনকে সিএনজিতে করে নিয়ে যায়।

NewsDetails_03

অপহরণকারী খোরশেদ রাঙামাটিতে নিয়ে গিয়ে ভিকটিম মোঃ নিজাম ও মোঃ তারিকের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়। তবে সে ভিকটিম মোঃ সেলিমকে সঙ্গে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাঙামাটি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেলিমকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে রাখে।

এদিকে গাড়িতে থাকা বাকি তিনজনকে ছেড়ে দিলে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কিন্তু পথে আরও কয়েকজন অপহরণকারী গাড়ি থামিয়ে আবারও দুইজনকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যায়।

পরে আরআইসি সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে মাটিরাঙ্গা জোন চেকপোস্টে সৈনিক মামুন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে এক ভিকটিমসহ দুইজন অপহরণকারীকে আটক করে। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি ইসলামপুরের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দীন ইসলাম পারবেজ (৩০), খাগড়াছড়ি তেতুলতলা এলাকার বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুনা প্রীয় চাকমা (৩৬), খাগড়াছড়ি দক্ষিণ গজ্ঞপাড়ার বাসিন্দা আতাউর রহমান সুজন (২২), জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন (২৭)সহ মোট চারজন অপহরণকারীকে মাটিরাঙ্গা জোনের সেনা সদস্যরা আটক করে সদরে নিয়ে আসা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন