খাগড়াছড়ির সাপ্তাহিক হাটবাজারে ক্রেতাদের ভীড়, মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি

খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলার সাপ্তাহিক হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার বেশিরভাগই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও বিধিনিষেধ মানছে না। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, ভীড়ের মধ্যেই কেনাকাটা করছে। অনেকের মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। শনিবার জেলার দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী বাজারে ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে অন্যদের শরীরে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের হতে বলা হচ্ছে। মুখে মাস্ক থাকা অবধারিত। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করলেই করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আধ ঘণ্টা বোয়াললখালী বাজারে বসেছিল সাপ্তাহিক হাট। এসময় রাস্তার দু’পাশে দেখা যায় ভীতিকর চিত্র। ছোট্ট জায়গায় গড়ে ওঠা এই বাজারে মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। অনেক দোকানির মুখেও মাস্ক নেই। বেশিরভাগ ক্রেতার একই অবস্থা।

মুখে মাস্ক ছিলনা এমন এক ক্রেতা জানান, ঘরে ১১ বছরের এক কন্যা সন্তান আছে। যে কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাকেই সংসারের প্রয়োজনীয় বাজার করতে হয়। মাস্ক মুখে পরে হাঁটলে হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি।

একজন শাক বিক্রেতার মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘মাস্ক পরে কাস্টমারের (ক্রেতা) সঙ্গে কথা বললে শুনতে পায় না। কাস্টমার অন্যদিকে চলে যায়। এ কারণে মাস্ক পরি না।’

সকাল ১১টায় দীঘিনালা বাসটার্মিনালে দেখা যায় প্রায় একই চিত্র। এখানেও বেশিরভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। পরস্পর ঘেঁষাঘেঁষি করে বসছেন সিএনজি, জীপ ও বাসে। তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিলনা। আবার বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক না পরায় ক্ষুব্ধ সচেতন যাত্রীরা।

জাহিদুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, করোনা সংক্রণ বৃদ্ধির কথা কে না জানে! এর পরও মানুষ মাস্ক না পরেই বের হচ্ছে। তিনি বাসটার্মিনালে অন্যদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বলেন, তাকিয়ে দেখেন- কয়জনের মুখে মাস্ক আছে? অনেক চালকের মুখেও মাস্ক নেই।

করোনা সংক্রমণ রোধে ১১টি বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। সেগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে দায়িত্বশীলদেরা প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ যাত্রী,চালক ও দোকানীদের সচেতন করছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা৷ যারা নিয়মিত মাস্ক পরে বাজারে যাচ্ছেন তাদের দাবি, বাজারগুলোতে সংশ্নিষ্টদের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করায় জরিমানাও করছেন লোকজনকে। কিন্তু জনসাধারণের অসচেতনতা এলাকাবাসীকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে৷

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।