খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে আতঙ্ক

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভ
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে একদিকে জনদূর্ভোগ অন্যদিকে চরম আতংকে পড়েছে খাগড়াছড়িবাসী।
খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহব্বায়ক সুরুজ মিয়ার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা। শাপলা চত্ত্বর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সুরুজ মিয়াকে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির দায়ে দায়েরকৃত মামলার এজহারভুক্ত আসামী খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ সহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারে হস্তক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি কংজরী চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মংসুই প্রু চৌধুরী অপু, মাটিরাঙা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শামছুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা আওয়ামীলীগের অপর গ্রুপ হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টায় শাপলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মামলার এজহারভুক্ত আসামী ও জেলা শ্রমিক লীগের আহব্বায়ক নুরুন্নবী, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের, রামগড় উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম প্রমুখ।
বক্তারা, খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র রফিকুল আলমসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিএনপিকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীরা জেলা পরিষদসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডে দুর্নীতির মহোৎসব চালাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে যেন সুযোগ দেয়া না হয় সে আহবান জানান বক্তারা।
বেলা সাড়ে ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা খাগড়াছড়ি শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলো বিক্ষোভকারীদের দখলে থাকায় জনদূর্ভোগে পড়েন জেলাবাসী। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ। আতঙ্কে প্রয়োজনীয় কাজ না সেরেই অনেকেই চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা।
পুলিশের সামনেই উভয় পক্ষের দায়েরকৃত একাধিক মামলার এজহারভুক্ত আসামীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছিল। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের, খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ওসি তদন্ত শাহনুর সহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন এজেন্সির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।