খাগড়াছড়িতে খাল দখল করে ৪২ লক্ষ টাকা সরকারি অর্থে ঠিকাদারের বাড়ী রক্ষা !

খাগড়াছড়িতে খাল দখল করে সরকারি অর্থে ঠিকাদারের বাড়ী রক্ষার ওয়াল তৈরী করা হচ্ছে
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো)-এর অর্থায়নে ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রভাবশালী এক ঠিকাদারসহ কয়েকজনের বাড়ী রক্ষায় খাল দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে আর সি সি রিটেইনিং ওয়াল। নির্মাণ করা ওয়ালের সাইন বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দুই দফায় এই কাজ করা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ জনগনের দু:খ-দূর্দশা লাঘবে নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলেও ঠিকাদারের বাড়ী রক্ষার্থে সরকারী টাকা ব্যয়ে খাল দখলের ঘটনায় খাগড়াছড়ির নাগরিক সমাজ ও পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবার যে ঠিকাদারের বাড়ী রক্ষায় এ ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার দৈবক্রমে সেই ঠিকাদারেই হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কাজের সৌভাগ্যবান ঠিকাদার।
বাস্তবায়িত প্রকল্পের সাইন বোর্ডে নাম ব্যবহার করা হয়েছে“ খাগড়াছড়ি সদরে খাগড়াছড়ি খালের ভাঙ্গন হতে মাস্টার পাড়ায় জনসাধারণের বসতবাড়ী ও জানমাল রক্ষার্থে আর সি সি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। অথচ-নিজেদের স্বার্থে খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে আঁতাত করে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাগড়াছড়ি নিসর্গ মঞ্চ’র সভাপতি ও সাংবাদিক সমির মল্লিক বলেন, যেখানে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে নদী-খাল-ছড়া-জলাশয় ও পুকুর রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের, সেখান এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে খাল দখলের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগজনক।
খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন-এর সা: সম্পাদক ও বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খাগড়াছড়ি শহরের বেশিরভাগ পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের এক শ্রেণীর আধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে এসব পুকুর ভরাটের পর ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনও হয়ে যাচ্ছে। আর খাগড়াছড়ি শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খাগড়াছড়ি খাল ও রাঙাপানি ছড়া তো দখল-দূষণে বিপন্ন।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শহরের সবচেয়ে ধনী লোকরাই সরকারি অর্থে কীভাবে নির্বিঘ্নে এসব প্রকল্প পাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখারও দাবি তুলেন।
এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদার ও জায়গার মালিক গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কাজে কোন ধরনের অনিয়ন নেই। তবে খাল দখলে বিষয়টি আমার না,এটা কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয়।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রকৌশল শাখা থেকে জানানো হয়েছে, মিউসিপ্যালটি এ্যাক্ট অনুযায়ী শহরের খাল-ছড়া-জলাশয়-পুকুর সুরক্ষায় সরকারি আইন রয়েছে। পৌর এলাকায় যেকোন অবকাঠামো নির্মাণে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। তবে এই প্রকল্পে পৌরসভার অনুমোদন ছিল না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তোফাজ্জল হক খাল দখলের বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদার গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ী রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পের পক্ষ নিয়ে বলেন কাজের পাশে বেশ কয়েক জনের জায়গা রয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে তিনি পাশ কাটিয়ে নানা রকমের যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এদিকে খাল দখল করে ঠিকাদারের বাড়ী রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পের বিষয়ে তদন্তের দাবী জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), জেলা দুর্নীতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) এবং খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।