খাগড়াছড়িতে থামছে না পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য

খাগড়াছড়িতে কিছুতে থামছে না পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য। পরিবেশ আইন অমান্য করে সুযোগ বুঝে পাহাড়ের গায়ে আচঁড় বসানো হচ্ছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে পাহাড় কাটা উৎসব। প্রশাসনের তৎপরতায় কিছু দিন বন্ধ থাকলেও সুযোগ বুঝে আবারও চলে পুরানো কর্মযজ্ঞ।

সরজমিনে জেলা সদরের খাগড়াপুর, শালবন, সবুজবাগ ও কুমিল্লাটিলা এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বুধবার বিকেলে জেলা সদরের খাগড়াপুর পুলিশ লাইন্স এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দেশীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ের বুকে শাবল দিয়ে মাটি সরাচ্ছে ৩-৪ জন শ্রমিক। পাহাড়ের মাটি কেটে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্য জায়গা।

সম্প্রতি সময়ে পাহাড়টি কিনে নেয় জসিম নামে একজন। জায়গা কেনার পর থেকে শ্রমিক লাগিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে তা অন্যত্র সরিয়ে সমতল করার অভিযোগ রয়েছে। তবে জসিম নামের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করায় তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সাহস করছে না কেউ।

নাম না প্রকাশের অনুরোধে কয়েকজন জানান, পুলিশ লাইন্সে প্রবেশমুখে দিনে দুপুরে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রশাসনের কেউ দেখছে না। যে লোক মাটি কাটছে সে পুলিশ সদস্য হওয়ায় এলাকাবাসী এ কাজের বাধা দিতে ভয় পাচ্ছে। যে ভাবে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে সামনের বর্ষায় পাহাড় ধসে আশপাশের বসবাসকারীরা হুমকিতে পড়বে।

গত বুধবার বিকেলে পাহাড় কাটার ছবি তুলতে গেলে জসিম নামে ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি কিছুদিন আগে জায়গাটি কিনেছেন। জায়গা কেনার পর থেকে অনেকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনায় যেন কোন সংবাদ করা না হয়।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান,পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি লোক দেখানো মাত্র। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা ভারী বর্ষণের সময় নামে মাত্র অভিযান চালালেও সারাবছর কোন ভূমিকা দেখা যায় না।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিব উল্লাহ জানান, এটি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন। প্রতিবেদককে তাদের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।