খাগড়াছড়িতে দিনেদুপুরে পার্কে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় আটক ৫জন

খাগড়াছড়িতে কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পাঁচ দুর্বৃত্তকে সনাক্ত করেছে নির্যাতিত কিশোরী। তার এবং আটককৃতদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ আরো তিন অপরাধীকে খুঁজছে। এরমধ্যে সনাক্তকৃত পাঁচ দুর্বৃত্তকে আদালতে তুলে প্রত্যেকের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
এরা হলেন খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দক্ষিণ গঞ্জপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন, আলী হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, সামশুল হকের ছেলে সাফায়াত হোসেন বাবু, জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফল ইসলাম অন্তর এবং নরসিংদীর হাজীপুরের বাসিন্দা ই¯্রাফিলের ছেলে রুবেল হোসেন।
জেলাশহরে দিনেদুপুরে সংঘটিত রোমহর্ষক এই ঘটনায় নির্যাতিত নারীর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। দিনমজুর মা-বাবা’র স্কুলপড়ুয়া সন্তানের এমন দুর্বিসহ পরিস্থিতির জন্য তাঁরা মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিলউইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)।
মিছিলটি ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর জেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়। এরপর জেলা পরিষদ ও রেড স্কোয়ার হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রদক্ষিণ করে স্বনির্ভর বাজারের এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষক, খুনীও সস্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এতে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা, ধর্ষণ, খুন-গুম-অপহরণের মত ঘটনা রেকর্ড সংখ্যক বেড়েছে। সরকার নব্য মুখোশবাহিনী সৃষ্টি করে একটি আঞ্চলিক গ্রুপকে পকেটস্থ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপর সন্ত্রাস ও তথাকথিত ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
ডিওয়াইএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এইচডাব্লিউএফ নেত্রী এন্টি চাকমা ও পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা এবং পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের সাথে জড়িতসকল দুবৃত্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য যে,গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ির বিনোদন কেন্দ্র জেলা পরিষদ পার্কে ১০ম শ্রেনীর এক ছাত্রী গণধর্ষনের শিকার হয়। সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে জড়িত ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Maher Islam বলেছেন

    গত ২৯ মে ২০১৮ তারিখে সন্ধ্যা ৭টার দিকে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ধর্ষণের শিকার তিন মারমা ছাত্রী কি আমাদের বোন নয়?

    তাদের জন্য আমরা প্রতিবাদ করি নাই কেন?
    মামলা হয়েছে, মেডিক্যাল টেস্ট হয়েছে। তারপরেও তাদের ঘটনা ফেসবুকে পোস্ট হিসেবে আসে নাই কেন ?

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।