খাগড়াছড়িতে দুদক’র গণশুনানীতে অভিযোগকারীকে “রাজাকার” বললেন উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক’র গণশুনানী চলাকালে এক অভিযোগকারী ব্যক্তিকে ‘রাজাকার’ বলে তিরস্কার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের লোকজন। এ সময় হলরুমে উপস্থিত দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দেব তিরস্কারকারীদের দিকে ছুটে গেলে তারা পালিয়ে যায়। দুদক সচিবের উপস্থিতিতে গণশুনানী চলাকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সমর্থকদের আচরণে ক্ষুব্ধ অনেকে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দীঘিনালা উপজেলা শিল্পকলা হলরুমে সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের অংশগ্রহণে দুদক গণশুনানীর আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত এর উপস্থিতিতে গণশুনানী চলাকালে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দীঘিনালার বোয়ালখালী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির ভূমি জবরদখল করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠে।

নাম না প্রকাশ করার অনুরোধে কয়েকজন জানান,দীঘিনালা উপজেলার রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজনীতি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আবুল কাশেম এবং তার পরিবার। তাদের মতের বিরুদ্ধে যারা যায় তাদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয়।

তিরস্কারকারীদের পরিচয় জানতে আবুল কাশেমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,দীঘিনালার বেশীর ভাগ মানুষ তার সমর্থক। গণশুনানী চলাকালে অভিযোগকারীকে তিরস্কারকারী ব্যক্তিরাও তার সমর্থক হতে পারে। তাদের চিনে কিনা উল্টো প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।

এ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি সুদর্শন দত্ত বলেন, গণশুনানী অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। অভিযোগকারীর বক্তব্য গ্রহণকালে এমন আচরণ সবাইকে হতবাক করেছে। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা যেন না ঘটে সে দিকে নজর রাখবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

গণশুনানীতে উত্থাপিত অন্য অভিযোগ সমূহ:

শুধুমাত্র উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নয় তার ভাই মো. জসিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উত্থাপিত হয় গণশুনানীতে। নাম ও ঠিকানা গোপন রেখে একজন অভিযোগ করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই মো. জসিম নামে বেনামে বিভিন্ন বাজার ফান্ডের বরাদ্দকৃত ৪০ টি প্লট গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের খাদ্য শস্য ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অনিয়ম, আবুল হোসেন নামে উপজেলা পরিষদের এক কর্মচারীর ভূমি বাণিজ্য, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে ঘুষ বাণিজ্য, ভূমির ক্ষতিপূরণ বা ভাড়া না দিয়ে আনসার ব্যাটলিয়ন স্থাপন করে ভূমি দখল,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম, মৎস চাষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাধা প্রদান সহ ২৭ টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

গণশুনানী অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।