খাগড়াছড়িতে বন্যা দূর্গতদের মাঝে এমপির ত্রাণ বিতরণ

ত্রাণ বিতরণ করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলের থেকে পানি নামতে শুরু হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে লোকজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে দূর্গত এলাকাগুলোতে। মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি সদরের ৩নং গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণের চাল, ডাল, আলু ও তেল বিতরণ করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
এসময় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরী, সদস্য সতীশ চাকমা, আব্দুল জব্বার, গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান ত্রিপুরা ও খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন(কেইউজে) সভাপতি নুরুল আজম উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ী ঢলে জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী এলাকাসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও লংগদুর সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চর ও নিম্নাঞ্চলের কৃষি জমি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় চাষীরা বেকায়দায় পড়েছেন।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, এবছর প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকায় জেলার কৃষকদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টি, পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধসহ বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আম্র পালিসহ পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল বাজারজাত করা যাচ্ছে না। ঝড়ো বাতাস, অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের কারণে অনেক ফলদ বাগান ও মৎস খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়িতে এখনো পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা তৈরীর কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড় ধসে ৩জন নিহতসহ নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত হয়েছে। এখনো পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।