খাগড়াছড়িতে শুরু হচ্ছে পুলিশের “কমান্ডো প্রশিক্ষণ”

ছবি: প্রতীকী
বড় ধরনের জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলা কিংবা আপদকালীন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কমান্ডো প্রশিক্ষণের (ট্রেনিং) উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আগামী মাসে তথা ফেব্রুয়ারিতে খাগড়াছড়িতে পুলিশের বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে শুরু হচ্ছে পুলিশের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। কঠোর প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে সাধারণত সশস্ত্র বাহিনীতে কমান্ডো বা প্যারাকমান্ডো তৈরি করা হলেও এ প্রথম কমান্ডো ফোর্স তৈরি করা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া হামলাসহ সাম্প্রতিক সশস্ত্র জঙ্গি হামলার প্ররিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বাহিনীর সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জামসহ সব ধরনের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দিয়ে পুলিশের কমান্ডো ফোর্সকে সুসজ্জিত করা হবে। যাতে তারা যে কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। এরই মধ্যে গেল মাসে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ৪০ সদস্য কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। তারা এখন অন্যদের প্রশিক্ষণে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কমান্ডো ট্রেনিংয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং অ্যান্ড স্পোর্টস) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, কমান্ডো প্রশিক্ষণের মৌলিকত্ব বা ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বজায় রেখে ফেব্রুয়ারিতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। খাগড়াছড়িতে পুলিশের বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে হবে এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ। নিয়মিতভাবেই চলবে এ কমান্ডো প্রশিক্ষণ। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পুলিশ সদর দফতর। অত্যাধুনিক ও সুসজ্জিত এ কমান্ডো ফোর্সের কাজ হলো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলাসহ দেশের যে কোনো স্থানে যে কোনো আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এজন্য তাদের শারীরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও পরিস্থিতি মোকাবিলার সব ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
পুলিশ সদর দফতরের কর্মকর্তারা জানান, গেল বছর ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের ৪০ সদস্যের একটি দল ভারতের নয়াদিল্লিতে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড ট্রেনিং সেন্টারে কমান্ডো প্রশিক্ষণ নিতে যায়। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এরই মধ্যে পুলিশের কমান্ডোরা দেশে ফিরেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে। বেড়ে গেছে সশস্ত্র হামলার ঘটনাও। তাই দেশে বড় ধরনের যে কোনো হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে এ কমান্ডো ফোর্স করা হয়েছে। অপরাধী বা সশস্ত্র জঙ্গিরা তাদের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে কাজগুলো করতে চায়, সেগুলো সঠিক সময়ে মোকাবিলা করতেই পুুলিশ সদস্যদের কমান্ডো ট্রেনিং করানো হচ্ছে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ৩ সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ পুলিশের ৪০ সদস্য কমান্ডো প্রশিক্ষণ নেন। এদের মধ্যে এক নারী এএসপিসহ পাঁচ নারী পুলিশ সদস্যও সফলভাবে কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এ ৪০ সদস্য খাগড়াছড়ির বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে অন্য প্রশিক্ষণার্থীদের তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রেনিং করাবেন। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা সেনাবাহিনী থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা প্রশিক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত এফবিআইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াতসহ বিভিন্ন টিমের অভিজ্ঞ চৌকস অফিসাররা কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেবেন।
পুলিশ সদর দফতরের প্রশিক্ষণ শাখার কর্মকর্তারা জানান, কমান্ডো অপারেশন মূলত বড় ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাস বা সংকটকালীন মুহূর্তে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। যেমন গুলশানের হলি আর্টিজানে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামে কমান্ডো অপারেশন পরিচালিত হয়। সাধারণত কমান্ডো অপারেশন চারটি ভাগে হয়ে থাকে। কমান্ডো টিমের চারটি দল পৃথক দায়িত্ব পালন করে। সাধারণত একদল মধ্যস্থতা (হোস্টেজ নেগোসিয়েশন) করে; আরেক দল প্রতিরক্ষার (ডিফেন্স) দায়িত্বে থাকে; আরেক দল সরাসরি অ্যাকশন পয়েন্টে এবং আরেক দল তাদের রিজার্ভ হিসেবে থাকে। এর বাইরেও স্থান-কালভেদে নতুন কৌশলে অপারেশন পরিচালনা করে থাকেন কমান্ডোরা। জানা যায়, কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহরে পদায়ন করা হবে। এতে স্থানীয়ভাবে তারা যে কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবেন। খবর- আলোকিত বাংলাদেশ

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।