খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় নবাগত রিজিয়ন অধিনায়ক

খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় নবাগত রিজিয়ন অধিনায়ক
খাগড়াছড়ির নবাগত রিজিয়ন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেছেন, জ্ঞান সমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সম্প্রীতিপূর্ন এবং বিকশিত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। কাউকে ছোট বা কারো মতামতকে উপেক্ষা করলে দেশ-সমাজের অগ্রগতির ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মানুষে মানুষে নানা পথ ও মত থাকতে পারে। এটি বৈচিত্রের অংশ। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলাটাই উত্তম পথ। সবার সাথে উদার এবং মর্যাদাপূর্ন সহযাত্রায় সকলেই উপকৃত হবার সম্ভাবনা মেলে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের শক্তি দেশের প্রধানতম সহায়ক।
তিনি রোববার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)-এর কার্যালয়ে সংগঠনটির সদস্যদের সাথে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন।
কেইউজে’র সভাপতি সাংবাদিক নুরুল আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খাগড়াছড়ি রিজিয়নের জিএসও-টু (আই) মেজর নাজমুস সালেহীন সৌরভ, খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মো: আব্দুল হান্নান, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সা: সম্পাদক মুহাম্মদ আবু দাউদ, কেইউজে’র সহ-সভাপতি সৈকত দেওয়ান, কেইউ’র সা: সম্পাদক কানন আচার্য এবং সংবাদকর্মী প্রদীপ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
২০৩ পদাতিক ব্রিগেড’র নবনিযুক্ত এই অধিনায়ক নিজের ‘এনডিসি’ কোর্স এবং পেশাগত অন্যান্য অভিজ্ঞতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ সম্ভাবনাময় দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী পথ পেরিয়ে অর্জিত একটি স্বাধীন মানচিত্র। একটি ছোট্ট দেশ হলেও অনেকগুলি জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠিীকে নিয়ে সোনালী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি এখন পুরো পৃথিবীতেই একটি বিস্ময়ের বিষয়। দেশের উন্নয়নে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ একদিন এই দেশকে স্বপ্নের শেষ প্রান্তে নিয়ে যাবে।
তিনি এই লক্ষে পৌঁছাতে শিক্ষা এবং উন্নত-উদার মূল্যবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। কয়েকজন সাংবাদিক তাঁদের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, গণমাধ্যমের সহজ চলার পথে তথ্য বিনিময়ে সেনাবাহিনীর আরো উদার তথ্য প্রবাহে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া অবলম্বনের অনুরোধ জানান।
এসবের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ একমত পোষণ করে বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহে বর্হিবিশ্বের গতিকে মাথায় নিয়ে এখন থেকে খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনী আরো বেশি দ্রুত এবং আন্তরিকতার সাথে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিশ্চিতে সক্রিয় সহযাত্রী হবে।
সভার সভার সভাপতি এবং বিডিনিউজ ও এস. এ. টিভি’র প্রতিনিধি নুরুল আজম বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি’র আগে ও পরে কঠিন বাস্তবতায় জেলার সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নিজেদের অনেক সীমাবদ্ধতা এবং রুঢ় বাস্তবতাকে মাথায় নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে পিছপা হচ্ছেন না। গণমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত নানা অসঙ্গতিকে পেছনে ফেলে অনেক নতুন মুখ সাংবাদিকতায় আগ্রহী হলেও পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি কর্ম বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সভার শেষে প্রধান অতিথি কেইউজে’র কল্যাণ তহবিলে নগদ এক লক্ষ টাকা অনুদান ছাড়াও সংগঠনের স্থায়ী ঠিকানা গড়তে আন্তরিক ভূমিকা নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।