খাগড়াছড়ির দুর্গম নাথা পাড়ার শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দিলেন খোকনেশ্বর ত্রিপুরা

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের সবচেয়ে পিছিয়েপড়া জনপদ নাথাপাড়া। এলাকার সব মানুষের জীবিকা হয় জুম নইলে দিনমজুরী। চলাচলে পথ উঁচুনিচু পাহাড়-টিলা আর পাহাড়ি ঝরনাই। সে জনপদে কচিৎ কোন সহৃদয়বান জনপ্রতিনিধি অথবা সমাজ অনুরাগী পা পড়ে। সেই নাথাপাড়াতে ২০১৩ সালে ফুলঝাড়–বাগান করতে যান খাগড়াছড়ি সমাজকর্মী প্রণয়ন চাকমা। এলাকার মানুষের অনগ্রসরতা দেখে উদ্যোগ নিলেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। সেই স্বপ্নের ‘নাথাপাড়া ফুল আদাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এ আজ শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) হয়ে গেল জমজমাট বই উৎসব।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহবায়ক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা। তাঁর উপস্থিতিতে এলাকার মানুষ দারুণ উদ্বেলিত এবং উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যালয়ের খোলা কক্ষে শিক্ষানুরাগী প্রণয়ন চাকমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব-এর সাবেক সা: সম্পাদক মুহাম্মদ আবু দাউদ, সমাজকর্মী আশীষ চাকমা এবং খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন-এর সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী।

এসময় খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বিপিন চাকমা এবং একাত্তর টিভি’র প্রতিনিধি সাংবাদিক রূপায়ন তালুকদার, এড. শ্বাশত চাকমা এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খগেন্দ্র ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য প্রণয়ন চাকমা’র প্রশংসা করে বলেন, এই দুর্গম গ্রামে একটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজন ছিলো। এই বিদ্যালয় পরিচালনা জন্য এবং জাতীয়করণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি সহযোগীতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা, বিদ্যলয়ের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং সমাজকর্মী আশীষ চাকমা কর্মরত চার শিক্ষকের দুইমাসের বেতন প্রদানের ঘোষণা দেন। পরে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে রঙিন মলাটের ঝকঝেকে নতুন বই তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রণয়ন চাকমা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।