খাগড়াছড়ির মাটি খেকো সেলিমকে আরো আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা

কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাঁকে। অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড়কাটা এবং জমির টপসয়েল কাটতে সিদ্ধহস্ত ব্যবসায়ী সেলিমকে অতীতের মতো আজ আরো আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। টাকার প্রভাবে আগে তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে পারলেও এবার আর সেটি সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক মাসের মাথায় পুরনো অপরাধের পুনরাবৃত্তির কারণে গুণলেন এই গচ্ছা।

খাগড়াছড়িতে কৃষি জমির টপসয়েল কাটায় সেলিম এন্ড ব্রাদাস’কে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে এই অর্থদন্ড দেন।

তিনি জানান, সরকারি কাজে যাওয়ার ইটভাটার জন্য অবৈধভাবে কৃষির জমির উপরিভাগ (টপসয়েল) কেটে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধভাবে টপসয়েল কাটায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী ভাটা মালিক মো. সেলিমকে ২লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আগামীতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠাকুরছড়া, গোলাবাড়ি, গুগড়াছড়িসহ আশে-পাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে দরিদ্র জমির মালিকদেরকে টাকার লোভ এবং পুকুর খনন করে দেয়ায় লোভ ঠিকাদার সেলিম দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় জমি কেটে চলেছে। মাটির প্রতি মাত্রাতিরিক্ত লোভের কারণে এলাকার মানুষ তাঁকে মাটিখেকো সেলিম নামেই রসিকতা করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিগত বিএনপি শাসনামলে ‘আঙুল পুলে কলাগাছ’ বনে যাওয়া ঠিকাদার খাগড়াছড়ির সরকারি দলের লোকজনের কাছে বিএনপি সেলিম নামে পরিচিত হলেও টাকার জোওে সেলিম এখন পুরো জেলার ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন-এর সা: সম্পাদক সাংবাদিক আবু দাউদ জানান, চিহ্নিত কয়েক ব্যক্তি পাহাড়কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন, টপসয়েল কাটার ক্ষেত্রে অদম্য হয়ে উঠেছেন। জেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে এদের লাগাম টেনে ধরলেও থামানো যাচ্ছে না। তিনি এদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটা এবং পাহাড়কাটার দায়ে সেলিম এন্ড ব্রাদাস’কে বেশ কয়েকবার বড় অংকের টাকা জরিমানা করলেও তিনি একই অপরাধ বার বার করেই যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।