খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে নিয়ে অপ-প্রচারের দায় এড়ালো ইউপিডিএফ!

খাগড়াছড়ি জেলা সদরে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুরুব্বীদের সাথে একান্তে মতবিনিময়কালে কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘সিএইচটিনিউজডটকম’ নামের নাম ঠিকানাবিহীন একটি ওয়েবসাইট-এর অপ-প্রচারের সাথে কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’।আজ
বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা সদর ইউনিটের সমন্বয়কারী অংগ্য মারমা বলেছেন, ‘সিএইচটিনিউজডটকম’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘আর্মিরাই জুম্ম রাজাকারদের ব্যবহার করছে’ সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমন সংবাদের সাথে ইউপিডিএফ-এর সম্পর্ক নেই। নিউজ পোর্টালটির ব্যাপারেও ইউপিডিএফ দায়ী নয়। এর সাথে ইউপিডিএফ’কে জড়িয়ে মামলা দায়ের ও বিষোদগার কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’
‘ইউপিডিএফ’-এর প্রচার শাখার প্রধান নিরন চাকমা ইে-মেইলের প্রেরিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গত বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন ও মামলা দায়ের ঘটনাকে অবৈধ ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ মন্তব্য করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদায় শরণার্থী টাস্কফোর্স-এর চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জেলা শহরের খবংপর্য্যা এলাকায় প্রয়াত এক শিক্ষিকার শ্রাদ্ধ ক্রিয়ায় যোগ দেন। শান্ত রানী ত্রিপুরা নামের এই শিক্ষিকার সন্তান ও পৌর কাউন্সিলর অতীশ চাকমা’র সৌজন্যে সংসদ সদস্য সেখানে যোগ দেন। অতীশ চাকমা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পর্ক রাখলেও মূলত: সংসদ সদস্যকে অপছন্দ করেন। এছাড়া তাঁর দুই নিকটাত্মীয় একসময় পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ‘ইউপিডিএফ’-এর নেতৃত্বে ছিলেন।
সংসদ সদস্যের সফরসঙ্গীরা জানান, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জননেতা কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র ভাবমুর্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের হীন উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা-ভিত্তিহীন বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ‘ইউপিডিএফ’-এর মুখপত্র হিসেবে চিহ্নিত ও পরিচিত ওয়েবসাইট ‘সিএইচটিনিউজডটকম’ সামাজিক অনুষ্ঠানটির প্রায় এক সপ্তাহ পর একটি নোংরা ঔদ্বত্যপূর্ন সংবাদ প্রকাশ করে।
এর পর পরই বুধবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও খাগড়াছড়ি এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র বিরুদ্ধে ওদ্ধত্যপূর্ন অপ-প্রচার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার দায়ে ‘সিএইচটিনিউজডটকম’ ওয়েব সাইটের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন জেলা যুবলীগ সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, বুধবার বিকেলে ‘সিএইচটিনিউজ’ নামের ঠিকানাবিহীন ওয়েবসাইট-এ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপ-প্রচারসহ সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ২৯ ও ৩০ ধারায় এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও ওয়েবসাইটটিতে বাংলাদেশের সংবিধান ও পার্বত্যচুক্তি বিরোধী পূর্ন স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে প্রসিত বিকাশ খীসা’র নেতৃত¦াধীন ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’ এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-র সমর্থনে ওই সাইটে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র, সরকার, মুক্তিযুদ্ধ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপমানজনক-মানহানিকর অপ-প্রচার চালানোর অভিযোগ আছে সর্বমহলে।
সম্পাদক’র নাম ও ঠিকানাবিহীন ওই পোর্টালে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় এমপিকে জড়িয়ে পরিবেশিত খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে খাগড়াছড়ির সরকারি দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থাসহ সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, তারা পাহাড়ের উন্নয়নকে দাবিয়ে রাখতে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালেও ‘ইউপিডিএফ’-এর প্রেতাত্মারা স্বাধীনতা বিরোধী ভূমিকায় ছিলেন। ১৯৯৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা’র নেতৃত্বে সম্পাদিত ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র বিরোধীতায় সশস্ত্র অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
তাঁদের হাতে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পার্বত্যচুক্তি এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মানুষ স্বজনহারা হয়েছেন। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ ক্রমে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।
আওয়ামীলীগ নেতারা দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইউপিডিএফ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাঁরা ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করে রাজাকারের ভূমিকায় অবত্তীর্ন হয়েছে। গ্রামে গঞ্জে সংগঠনটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা বানচাল করতে পথে পথে সশস্ত্র হামলা করেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করায় বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা ইউপিডিএফ-এর অব্যাহত হুমকির কারণে এলাকায় যেতে পারছেন না। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের সংগঠনটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া বলেন, ইউপিডিএফ স্বাধীনতা, দিবস, বিজয় দিবস ও একুশে ফ্রের্রুয়ারী স্মৃতি সৌধ ও শহীদ মিনারে ফুল দেয় না। সংগঠনটি পাহাড়ে ভ্রাতিঘাতি সংঘাত চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগসহ যারা এদের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষন করে তাদেরকে হত্যা করছে ইউপিডিএফ।
জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তারের জেরে ‘ইউপিডিএফ’ বিভক্ত হয়ে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির জন্মের পর থেকে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তাদের কার্যকলাপে পার্বত্যবাসী অতিষ্ট। এখন তারা সেনাবাহিনী ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি ইউপিডিএফের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ সন্ত্রসী কর্মকান্ড বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, সিএইচটি ডটকম পোর্টালটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। ইউপিডিএফ সমর্থিত সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী সব অপতৎপরতার সংবাদ ওয়েবসাইটটি প্রচার করে আসছে। বুধবার বিকেলে ওয়েবসাইটটি’র সাথে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দয়ের হলে বুধবার মধ্য রাতেই ‘সিএইচটিনিউজডটকম’ সমালোচিত মিথ্যা সংবাদটি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এটির সাথে কারা সম্পৃক্ত সে বিষয়ে কারো কাছে কোন তথ্য নেই।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।