খাগড়াছড়ি ক্রীড়া সংস্থা’র সম্পাদক লাঞ্চিত : প্রতিবাদে বিক্ষোভ

খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র সম্পাদক লাঞ্চিত,  প্রতিবাদে বিক্ষোভ
খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র সম্পাদক লাঞ্চিত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
খাগড়াছড়িতে সাতারু অন্বেষন প্রতিযোগীতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমাকে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ সাতারুরা প্রতিযোগীতা বর্জন করেছে। রোববার বেলা পোনে ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স পুকুরে সাঁতার প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে ও নৌ বাহিনী কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জেলার ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদরা।

তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লে: কর্ণেল এস এম মাসুদুর রহমান ক্রীড়া সংস্থার সাদারন সম্পাদক জুয়ের চাকমা‘র ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন। এসময় তাকে চড় থাপ্পরসহ হেনস্তা করেন। তখন অন্য অফিসাররাও তাকে মারধর করেন। এসময় খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলী নৌ কর্মকর্তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন ও নৌ বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ নামে সারাদেশে সাঁতারু অন্বেষণের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোববার খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স্ পুকুরে প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় নৌ বাহিনীর কর্মকর্তার হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল চাকমা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতেই নৌবাহিনীর কমান্ডার এস এম মাহমুদুর রহমান প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল চাকমার সাথে তর্কে জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি জুয়েল চাকমাকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেন। এতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা সাঁতারুদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে অনেক সাঁতারু চলে যায়। এক পর্যায়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক জুয়েল চাকমাও অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল চাকমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির শাস্তি দাবী করেছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ বাহিনীর কমান্ডার লে. কর্ণেল এস এম মাহমুদুর রহমান কোন মন্তব্য না করে ডিসি ও এসপি’র কাছ থেকে জেনে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে যা ঘটেছে তা কারোর কাছেই কাম্য নয়। কিছু ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমাকে লাঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে ও নৌ বাহিনী কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জেলার ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।