খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগে বিরোধ চাঙা হবার আশংকা

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা। আর এ ঘোষণার পর থেকেই সরকারি দলের প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের মতো সরকারি দলের মধ্যে পুরোনো বিরোধ চাঙা হবার আশংকা তৈরি হয়েছে। কারণ, সরকারি দলের পক্ষ থেকে দুই মেয়াদের বর্তমান মেয়রকে কোনপ্রকার ছাড় না দেয়ার কথা জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। আর সেই পরিস্থিতিতে যদি বর্তমান মেয়রও স্বপদে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামেন তাহলে খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে বৈরি পরিবেশের ইতিহাস দীর্ঘ হতে থাকবে।

বৃহস্পতিবার পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে গোলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা’র ডাকা একটি সংবাদ সম্মেলনের পর শহরজুড়ে নতুন কানাঘুষা শুরু হয়েছে। সেই সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদের সীমানায় পৌরসভার টোল কেন্দ্র স্থাপন, বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দুষণ ও বিভিন্ন সংস্থা হতে কর আদায়সহ নানামুখী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি উঠেছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা এজন্য সরাসরি খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো: রফিকুল আলমকে অভিযুক্ত করেন।

নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র মোঃ রফিকুল আলম দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা দখল করে পৌরকর আদায় করে আসছেন। এই কর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কৃষকের উৎপাদিত পণ্যও বাদ যায়নি। পৌর সীমানা লংঘন করে গোলাবাড়ি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (বিনা) থেকে পৌরকর নেয়া হয়েছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি পৌরসভা সম্প্রসারণ বিষয়ে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ১ থেকে ৬ নং এবং ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের আংশিক অংশ পৌরসভায় অর্ন্তভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গোলাবাড়ি ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া মনে করেন, পৌরসভা নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে যেসব অভিযোগ পৌরসভার বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে; তাতে পৌর নির্বাচনের কোন সমস্য হবে না। তবে কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচন ঠেকাতে চায় বা সেরকম চিন্তা থেকে মাঠে নামে, তাহলে মানুষ সেটি গ্রহণ করবে না।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম গোলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ বলেন, খাগড়াছড়ি শহর সম্প্রসারণে বিগত ২০১৩ সালেই মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছে। গোলাবাড়ি ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ পৌর এলাকার সাথে সর্ম্পকিত বিধায় তাঁরাও পৌর এলাকায় অর্ন্তভুক্ত হতে আগ্রহী। পৌর এলাকার বর্জ্য পৌরসভার জন্মলগ্ন থেকেই আলুটিলা এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এরিমধ্যে শহরের কুমিল্লা টিলা এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন চালুর পথে। আর পৌর এলাকার বাইরে থেকে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর আদায়ের আইনগত কোনই সুযোগ নেই।

এদিকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার আগামী নির্বাচনে বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম আবারও প্রার্থী হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। সে লক্ষে তিনি জোর প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছেন। তিনি সরকারি দলের মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিশেবেই লড়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি ছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সা: সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবি এড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. মহিউদ্দিন কবির বাবু, তরুণ রাজনীতিক ও জেলা পরিষদ সদস্য জুয়েল ত্রিপুরা’র নাম সরকারি দলের প্রার্থী হিশেবে আলোচিত হচ্ছে।

যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়, সেক্ষেত্রে জেলা বিএনপি’র সা: সম্পাদক এম. এন. আফছার এবং জেলা যুবদলের সা: সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের নাম এগিয়ে আছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী নভেম্বরে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।