খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৬

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পূর্ব ঘটনার জের ধরে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ ও চেঙ্গী স্কোয়ার মোড়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় জনি দে ও আকিব হোসেন নামে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। কলেজের দ্বিতীয় গেইটে বহিরাগতরা একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ভাংচুর করে।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি নিকাশ চাকমা বলেন, কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠান চলাকালে সমাবেশে অংশগ্রহণ না করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনি দে’র নেতৃত্বে ৭-৮জন সোমবার কলেজ মাঠে সোনাক্ষ চাকমাকে মারধর করে। এসময় তাঁর সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে সোনাক্ষ চাকমা ও সুখময় চাকমা আহত হয়। পরবর্তীতে কলেজ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি মীমাংসা করে দিতে চাইলে পৌর কাউন্সিলর মাসুম রানার নেতৃত্বে বহিরাগতরা কলেজের দ্বিতীয় গেইটে অটো রিক্সা ভাংচুর ও চেঙ্গী স্কোয়ারে শ্যামল ত্রিপুরা নামে এক শিক্ষার্থীকে আবারও মারধর করে।
অপরদিকে, পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি মাঈন উদ্দিন বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের বহিরাগতরা কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে নীরহ শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৩জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে মো: পারভেজ ও মো: ইয়াসিন চিকিৎসা নিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ উল্টো দুই নীরহ বাঙালী শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে গেছে। অবিলম্বে আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবী জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষের উত্তেজনা বিরাজ করায় কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: নয়নময় ত্রিপুরা জানান, কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।