খাদ্য সংকটে থাকা রাজ বনবিহারের বানরদের খাবার দিলেন রাঙামা‌টির জেলা প্রশাসক

করোনার কারণে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙ্গামাটির পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজ বন বিহারের এলাকার বনাঞ্চলের আশ্রয় নেওয়া হাজারের অধিক বানরদের মাঝে খাবার দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজ বন বিহারের মাঠ প্রাঙ্গণে বানরদের মাঝে খাবার বিলিয়ে দেন। খাবার গুলোর মধ্যে ছিলো, মিষ্টি কুমড়া আর মোটর ডাল। এসময় বনাঞ্চলের থাকা হাজারেরও অধিক বানর খাবার খেতে ছুটে আসে।

এসময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন ও নেজারত ডেপুটি কাল্টের (এনডিসি) বোরহান উদ্দিন মিঠু, রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় খীসা, বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বালুখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমাসহ জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ স্থান রাজ বন বিহারের পূর্ণ্যাথীদের পাশাপাশি পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিহারে থাকা হাজারের অধিক বানর খাদ্য সংকট পরে।
অন্যদিকে রাজবন বিহার এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে বানরের সংখ্যা। বেড়েছে এসব বানরের উপদ্রবও। খাদ্য সামগ্রী সংকট দেখা দিলে বানরের উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেক সময় বিহারে আসা পূণ্যার্থীদের কাছ থেকে খাদ্য সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রতিনিয়ত বানরগুলোর সংখ্যা বাড়লেও সে পরিমাণ খাদ্য পাচ্ছে না। বিহার থেকে যে খাবার পাচ্ছে তাও পর্যাপ্ত নয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, করোনার কারণে রাজবন বিহারের বনাঞ্চলে অবস্থানরত বানরগুলোর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে এসেছি। তবে বিহার পরিচালনা কমিটি যদি খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজন মনে করে তাহলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে প্রাকৃতিক বনের মাঝে গড়ে তোলা হয় রাজবন বিহারটি। সে সময় কিছু বানর দেখা যেত বন বিহার এলাকায়। ধীরে ধীরে রাঙ্গামাটি শহরে গাছপালা উজাড় হয়ে গেলে বানরগুলো আশ্রয় নেয় বন বিহারে থাকা গাছপালাগুলোতে। আর বন বিহার হয়ে উঠেছে বানরদের আশ্রয়স্থল।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।