খোলা আকাশের নিচে বাইশারীর ক্ষতিগ্রস্থরা

খোলা আকাশে নিচে বাইশারী ক্ষতিগ্রস্থরা
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার বাইশারীতে ঘূর্নিঝড় মোরা’র আঘাতে দুই শতাধিক বাড়ীঘর, বনজ-ফলজ বাগান, রাবার বাগান সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিধ্বস্থ হয়ে গেছে বসতবাড়ী ও শতাধিক ফলজ ও বনজ বাগান। ঘূর্নিঝড় মোরা’র আঘাতে বৈদ্যুতিক খাম্বার উপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গাছ সরাতে গিয়ে মধ্যম বাইশারী এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম (৩৫) নামে এক মহিলা গুরুতর আহত হলেও নিহত হওয়ার কোন ধরনের খবর পাওয়া যায়নি। গতকালের পর খোলা আকাশের নিচে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ রাত পার করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ৩০টি বসত বাড়ী সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ ও দুই শতাধিক বাড়ীঘর আংশিক বিধ্বস্থের খবর পেয়েছেন। তাছাড়া ফলজ-বনজ ও রাবার বাগানের প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার নিকট অবহিত করা হয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাইশারী শাহ্ নুরুদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার অফিস, এছাড়া মুরগীর ফার্ম, তুফান আলী পাড়া, পেঠান আলী পাড়া ও দক্ষিন বাইশারী কাপ্তাই শিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, লম্বাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে যায়। সকাল থেকে ঘূর্নিঝড় মোরা’র আঘাতে সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে মঙ্গলবার সারাদিন বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁহ সড়কে কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে এই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থরা কোন ধরনের সহযোগিতা পায়নি।
লম্বাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোবায়েত নাহিদ নুর জানান, বিদ্যালয়ের টিনসেট একটি ভবন সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে গেছে।
বাইশারীর রাবার বাগান ম্যানেজার জাফর আলম ও মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, রাবার বাগানের অন্তত ৫০ হাজার গাছ উপড়ে বা উপরী ভাগ থেকে ভেঙ্গে গেছে। যার মূল্য আনুমানিক কোটি টাকার হবে বলে ধারনা করছেন তারা। এ ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠা মালিকের পক্ষে সম্ভব হবে না বলে জানান তারা।
সরজমিনে ঘুরে আরো দেখা যায়, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কাগজী খোলা, ক্যথোয়াই পাড়া, দোছড়ি মুখ, ২নং ওয়ার্ড রাঙ্গাঝিরি, ক্যাংগার বিল, ৩নং ওয়ার্ড আলীক্ষ্যং, বড়ই চর, ধুইল্যা ঝিরি, তুতুবখালী, ৪নং ওয়ার্ড করলিয়ামুরা, উত্তর করলিয়ামুরা, কুমপাড়া, লম্বাবিল, ৫নং ওয়ার্ড হলুদিয়া শিয়া, গুদাম পাড়া, ৬নং ওয়ার্ড তিতার পাড়া, উপর চাক পাড়া, মধ্যম চাক পাড়া, থুইহাঅং পাড়া, ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বাইশারী, পশ্চিম বাইশারী, পেঠান আলী পাড়া, মধ্যম বাইশারী, উত্তর বাইশারী, ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ নারিচবুনিয়া, পুর্নবাসন পাড়া, ধৈয়ার বাপের পাড়া, নতুন চাক পাড়া, হরিণখাইয়া, থিমছড়ি শিয়া পাড়া, ঘোনা পাড়া, ৯নং ওয়ার্ড তুফান আলী পাড়া, পূর্ব বাইশারী, করিমার ঝিরি, চাক হেডম্যান পাড়া সহ আরো অনেক গ্রামের বাড়ীঘর, গোয়াল ঘর, বনজ-ফলজ বাগান, মসজিদ, মন্দির, মক্তবের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় অপরিসীম। এলাকাবাসী সরকারের পাশাপাশি মানব সেবায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবান ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে যান বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম ও বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক এসআই আবু মুসাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।