গণতন্ত্র চর্চার প্রত্যয়ে লামায়‘স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট’ নির্বাচন

লামায়‘স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট’ নির্বাচন
শিশুকাল থেকে গণতন্ত্র চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রত্যয় নিয়ে সারা দেশের ন্যায় বান্দরবানের লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট’ নির্বাচন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিবাবকদেরে স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে মূখরিত হয়ে উঠে বিদ্যালয় মাঠ। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলে। ভোট গননা শেষে প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজ ফলাফল ঘোষনা করেন। জাতীয় সংসদ, উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন নির্বাচনের মতই মাধ্যমিক পর্যায়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ নির্বাচনেও ছিল নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও প্রার্থীদের এজেন্ট।
নির্বাচনে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫টি শ্রেনীতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬২১জন। তম্মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ১২৩জন। ৭ম শ্রেনীতে ১৬৭জন, ৮ম শ্রেনীতে ১০৯জন, ৯ম শ্রেনীতে ১০০জন এবং ১০ম শ্রেনীতে ১৩০জন ভোটার। নির্বাচনে ৮ প্রতিনিধি পদের জন্য ৩০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ৭জন, ৭ম শ্রেনীতে ৮জন, ৮ম শ্রেনীতে ৫জন, ৯ম শ্রেনীতে ৬জন ও ১০ম শ্রেনীতে ৪জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্ধি ছিল। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত মোট ৬২১জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে নষ্ট ভোটের সংখ্যা ৬৯টি।
নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা হলো- ৬ষ্ঠ শ্রেণীর তানজিম সুলতানা (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৯৬টি)। ৭ম শ্রেণীর উম্মে সোলাইম রোমাইসা (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২২০টি) ও মেহেজাবিন বৃষ্টি (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৮৩টি), ৮ম শ্রেণীর গোধুলী চৌধুরী (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৯৯টি) ও নিপা বেগম (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৭০টি)। ৯ম শ্রেনীর রাখি দাশ (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৩১টি), দশম শ্রেনীর এখিং মার্মা (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৩৫৭টি) ও ইসরাত জাহান নীলা (প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২০৭টি)। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন, ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী আফরিনা শহিদ তিষা। ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী লাভলী দাশ ও ১০ শ্রেণীর হ্লাচিং মার্মা নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া ৪টি বুথে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২জন প্রিজাইডিং ও ৮জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী পোলিং অফিসার এবং বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জেবুন্নাহার বেগম সমন্বয়কারীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচন চলাকালীন সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া ও লামা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজসহ অন্য শিক্ষকবৃন্দ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করেন।
নির্বাচন সমন্বয়কারী ও লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জেবুন্নাহার বেগম জানান, গত ১৬ মার্চ মনোনয়নপত্র আহবান, ১৮ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা, ১৯ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ও বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও ২০ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যহার ও চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএম ইমতিয়াজ বলেন, বিদ্যালয় আঙ্গিনা ও শ্রেণী কক্ষ পরিস্কার, খাবার পানি সংগ্রহ, আসন বিন্যাস, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, বিদ্যালয়ে বাগান তৈরি ও পরিবেশ উন্নয়নসহ বিতর্ক আয়োজন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকমূলক কর্মকান্ডে এ ক্যাবিনেট নির্বাচনে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশেষ ভুমিকা রাখবে।
লামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া বলেন, শিশুকাল থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, বিদ্যালয়ের শিখন কার্যক্রমে শিক্ষকমন্ডলীকে সহায়তা, বিদ্যালয়ে শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের লক্ষ্যেই এ নির্বাচন। এ কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার, পোলিং অফিসার, প্রার্থী সবাই শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, একই দিন লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়, চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয়, লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, লাইনঝিরি মোহাম্মদদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ উপজেলার ১৩টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।