ঘরে তো সেমাই কেনারও টাকা নাই

রাবেয়া খাতুনের ঈদ আনন্দ !

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশির দিন। সব দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে পবিত্র ঈদের দিনে সবার মধ্যে দীপ্তিময় খুশি আর আনন্দ ভাগভাগি করা। তবে এবার ঈদের আনন্দের খুশি সব কিছু ম্লান করে দিয়েছে সদ্য স্বামী হারা রাবেয়া খাতুন পরিবারকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর দিনে রাবেয়া খাতুনের কান্না যেন থামার নয়। ঘরে সেমাই, চাল-ডাল ও তরকারী কোনো কিছুই কেনা হয়নি। ঈদের নতুন কাপড় কেনা দুরে থাক, সেমাই কেনার সামর্থ্যও তার নেই। পাহাড়বার্তা’কে এসব কথা বলেছিলেন রাবেয়া খাতুন(৫৫)।

রাবেয়া বান্দরবান জেলার রুমা সদর ইউনিয়নে খক্ষ্যংঝিরি বাজার এলাকায় বনবিভাগের রুমা রেঞ্জ অফিসের সংলগ্ন একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে থাকেন। আজ বুধবার (১২ মে) বিকালে তার ঘরের সামনে বসে কথা হয়েছিল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।

রাবেয়া খাতুন পাহাড়বার্তা’কে আরো বলেন,তার স্বামী বুকের ব্যথার যন্ত্রণায় পুরো ছয় মাস অসুস্থ ছিলেন। সুচিৎসার অভাবে গত ১২ এপ্রিল তার স্বামী আবু তাহের মারা যান। রোজার শুরুর দিন (১৩ এপ্রিল) মঙ্গলবার আমার স্বামীকে কবর দেয়া হয়। তবে আমি (রাবেয়া খাতুন) আজ পর্যন্ত সেহেরি খেয়ে, না খেয়ে পুরো ২৯টি রোজা রেখেছি। আরো একটি রোজা হলে পুরো ৩০ দিন শেষ হবে।

রাবেয়া জানায়, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তার মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। মেয়ের সংসার চট্টগ্রাম শহরে। সবাই যার যার মতো ব্যস্থ,তাকে দেখার এখন কেউ নেই। এখন ঘরে মা আর ছেলে। ছেলের বয়স মাত্র ১৫ বছর। তাই দিন মজুরি কাজ করতে পারে না।

ওই সময় এক প্রশ্নে রাবেয়া খাতুন জানায়, ছেলে ঘরের ভেতর ঘুমাচ্ছে। তার মনেও অনেক কষ্ট আর দুঃখ, বাবা নেই। ঈদে এবার ছেলের জন্য নতুন কোনো টুকরো কাপড়ও কেনা হয়নি। ঈদের খাবারও নাই উল্লেখ করে তিনি আরো জানায়, এখন ঘরে মাত্র আধা কেজি চাল রয়েছে।

সেই কুলার চাল দেখিয়ে রাবেয়া খাতুন জানায়, স্বামীর মৃত্যু ৪০ দিন হতে আরো ১০ দিন বাকী আছে। ৪০ দিনে স্বামীর মৃত্যু ৪০ দিনের মাথায় চাল্লিশা খাবার আয়োজন করা হবে। ওইদিন চট্টগ্রামে থাকা মেয়ে ও জামাইসহ সব ছেলে আসবে। তখন ঘরে থাকা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কথা হবে, সে কি করবে। এই ছোট্ট ছেলে আমাকে ঘরে রেখে কি কাজ করতে পারবে ? এসব কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ওই সময় তার পাশে বসা কয়েকজন নারীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।