চলতি বছরে বান্দরবান সদরে আলোচিত ২ ধর্ষণের ঘটনা

আলোচিত দুই ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার অংথুই প্রু মারমা ও কাজল বড়ুয়া
বান্দরবান জেলা সদরে চলতি বছর দুইটি আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, এই দুই ঘটনার কারনে স্থানীয়দের মনে বেশ আতংক বিরাজ করছে, অনেকে মনে করছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধিরা পার পাওয়ার কারনে বারবার এই ধরণের অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের শান্তিপূর্ন জেলা হিসাবে বান্দরবানের ব্যাপক পরিচিতি থাকলেও ধর্ষণ, সন্ত্রাস,মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়ার কারনে বান্দরবানের শান্তিপূর্ণ জেলার পরিচিত নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই থেকে শহরের উজানী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় ও ৪র্থ শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ফুটবল টিমের অনুশীলনের পর অংথুই প্রু মারমা তার কক্ষে ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে যায়। সে সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয় ভবনে তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে উক্ত ছাত্রীদের একাধিকবার ধর্ষন করে। অভিযুক্ত জেলা শহরের মধ্যম পাড়া এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের মৃত চিংশৈউ মারমার ছেলে অংথুই প্রু ওরফে য়ইন সে মারমা।
আরো জানা গেছে, এক পর্যায়ে উক্ত দুই ছাত্রী অসুস্থ হলে তার বড় বোন ঘটনাটি জানতে পারে। পরে তাদের অভিভাবকরা মানবাধিকার নেত্রী ডনাই প্রু নেলী সরণাপন্ন হলে তিনি বান্দরবান সদর থানায় অভিযোগ করেন। পরে সদর থানায় মামলা দায়ের হলে ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের রাজপূণ্যাহ’য় বেড়াতে এসে পৌর এলাকায় এক আদিবাসী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়। শুক্রবার রাত এগারটার দিকে জেলা শহরের শাপলাচত্ত্বরের পর পৌরসভার শিশু পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভিকটিম ও তার প্রেমিক ওই চার দুর্বৃত্তকে না চিনলেও একজনের নাম কাজল ও অন্যজন নিজেকে নেতা জুয়েল নাম পরিচয় দেওয়াতে এই দুইজনের নাম বলতে পারে। ঘটনার পর আজ রোববার সকালে শহরের বালাঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজল বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে। কাজল কালাঘাটার এলাকায় মুন্ডি ব্যবসা করে বলে জানা গেছে।
ভিকটিমের প্রেমিক উপোছাই মারমা পাহাড়বার্তাকে জানান, গত শুক্রবার রাতে দুইজনে রাজপূণ্যাহ মেলায় বেড়াতে আসে। এরপর রাত এগারটার দিকে হাঁটতে হাঁটতে শিশু পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাতে প্রস্রাব করার জন্য প্রেমিকাকে রেখে নির্জন জায়গায় যান। ফিরে আসার পর দেখেন চারজন যুবক তার প্রেমিকাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদেরই একজন নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা জুয়েল নাম পরিচয় দিয়ে এক পর্যায়ে ওই চার যুবক তার প্রেমিকাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় দুই যুবক তার প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে। এসময় তাকে অন্য দুই যুবক বেধে ফেলে।
ভিকটিমের প্রেমিক উপোছাই মারমা আরো জানান, আমরা শনিবার রাতে মামলা দায়ের করেছি, এই ঘটনার বিচার পেতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আজ সকালে বান্দরবান সদর থানায় আসা ধর্ষণের শিকার কিশোরী পাহাড়বার্তাকে জানান, সে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে। তার বাড়ি বান্দরবানের রুমা উপজেলার থানা পাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম প্রু থোয়াইউ মারমা।
এদিকে শনিবার বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পর্ণ হয়েছে। বান্দরবান শহরে এই প্রথম গণধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তি দাবী করেছে।
এই ব্যাপারে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উল্লাহ পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি, অপরাধীদের কোন ধরণের ছাড় দেওয়া হবেনা।
সাইবার ক্রাইমসহ নানা ঘটনার হোতা যুবলীগ নেতা কাজল বড়ুয়াকে এর আগে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল জেলার সেচ্ছাসেবকলীগ নেতারা, গতবছর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফারুক আহম্মেদ বাদী হয়ে কাজলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
এদিকে, জেলায় একের পর এক ধর্ষণের মতো ঘটনা সংগঠিত হওয়ায় স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Aong Marma বলেছেন

    Ora madare lok ta fachi chi

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।