চাঁদা দাবীতে লামায় বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবীতে পাহাড়িকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার সাড়ে ১২টায় ইউনিফর্ম পরিহিত অস্ত্রধারী ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে এই চাঁদা দাবী করেছে বলে জানায় উন্নয়ন কাজের প্রধান শ্রমিক ফজল হক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,জেলার লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের কোলাইক্কা পাড়া অবস্থিত পাহাড়িকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মান কাজ চলছে। এলজিইডি’র বাস্তবায়নে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি করছে বান্দরবানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মি. ইউটি মং। এসময় চাঁদাবাজরা নিজেদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) গ্রæপের সদস্য বলে দাবী করে।
আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল সারোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
শ্রমিক ফজল হক আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা একমাস আগে এসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল। চাঁদা না দেয়ায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় অস্ত্রধারী ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি ও সহকারী শ্রমিক মিলে ৫ জন ছিলাম। তারা এসে আমাদের গাছের সাথে বেধে প্রচন্ড মারধর করে।
তিনি আরো বলেন, সহকারী শ্রমিক মোঃ মাসুমকে তাদের সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তার চোখের একপাশে কেটে রক্তক্ষরন হয়। প্রায় দুই ঘন্টা মারধর করে আমাদের ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। সামনে চাঁদার টাকা না নিয়ে আসলে লাশ হয়ে ফেরত যেতে হবে বলে শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা শাসিয়ে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বেধে রেখে টাকা আদায় করে।
পাহাড়িকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নেপিউ মুরুং বলেন, সন্ত্রাসীরা অধিকাংশ রাঙামাটির চাকমা, তাদের মধ্যে কয়েকজন মারমা রয়েছে, এরা জেএসএস গ্রুপের সদস্য।
এবিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের কেউ অবগত করেনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Rupak Das বলেছেন

    সন্ত্রাসীরা সংখ্যায় কতজন ? নিশ্চয় গুটিকয়েক। লামা উপজেলায় কি আইন-শৃংখলা বাহিনী এবং সাধারণ ও সচেতন কোন নাগরিক নাই ? গুটিকয়েক সন্ত্রাসী দ্বারা সরকারের উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকবে মেনে নেয় যায় না। এরা নিশ্চয় ভারত বা মায়ানমার থেকে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়নি, তারা নিশ্চয় ঐ এলাকা এবং আশপাশের লোক। তাই এ সমস্ত তলাবিহীন ও টুঙ্গা মার্কা নামদারী সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করা উচিত । এ বিষয়ে সর্বপ্রথম পাড়া কারবারীর জবাব দিহিতা করা প্রয়োজন। কারণে একটি পাড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী এসে চাঁদাবাজি করে যাবে আর পাড়া কারবারী কিছুই জানবে না তা কি করে হয়। মাসিক সরকারী ভাতা গ্রহনের পাশাপাশি পাড়া কারবারীর কিছু দায়-দায়িত্বও রয়েছে। পাড়াকারবারীদের উচিত এ সকল সন্ত্রাসী পাড়ায় উপস্থিতি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তথ্য সর্বপ্রথম আইন-শৃংখলা বাহিনীতে অবহিত করা ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।