চিম্বুকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃগোষ্ঠী সেলের উদ্যোগে বান্দরবান পার্বত্য জেলার চিম্বুকের ভাইট্টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ম্রো জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যের উপর তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে স্থানীয় ম্রো তরুণ-তরুণীরা উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
কর্মশালায় চারজন প্রশিক্ষকের মধ্যে মুখ্য প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ম্রো কারবারি (গ্রাম প্রধান) পায়া ম্রো। নৃত্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন ১৫ জন নারী, আর ঐতিহ্যবাহী ম্রো বাঁশি তৈরিতে ও বাজনায় প্রশিক্ষণ নেন ১৫ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারী।
সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় ম্রো জাতিগোষ্ঠীর লুপ্তপ্রায় বাদ্যযন্ত্র ‘ম্রো বাঁশি’ তৈরির কৌশল, এর সুর ও বাজানোর ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মকে শেখানো। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ম্রো নৃত্যের ধারা ও ছন্দের অনুশীলন করেন হাতে-কলমে।
বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় চিম্বুকে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা ম্রো সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

কর্মশালার সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চ নু মং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃগোষ্ঠী সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. শামীম আকতার।
সমাপনী দিনে প্রশিক্ষণার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরিবেশন করেন ম্রো নৃত্য ও ম্রো বাঁশির মনোমুগ্ধকর সুর, যা দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
এস. এম. শামীম আকতার বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে আমরা নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার সেতুবন্ধন তৈরিতে সহযোগিতা করছি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সংগতি রেখে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের আন্তরিক অংশগ্রহণ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এ ধরনের উদ্যোগের ফলে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃগোষ্ঠী সেলের এমন উদ্যোগ শুধু একটি প্রশিক্ষণ নয় এটি এক অনবদ্য প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে পাহাড়ের বাতাসে আবারও বেজে উঠছে ম্রো বাঁশির সুর এবং নাচছে ঐতিহ্যের ছন্দে ম্রো নবপ্রজন্ম।



