জঙ্গি নির্মূলে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে: নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়
দীর্ঘ নয় মাস পূর্বে বাড়ী ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ছায়ানীড়ের জঙ্গী আস্তানায় নিহত কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী জোবাইরা ইয়াসমিন এবং কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় আটক হাসানের বসত বাড়ী পরিদর্শন সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, রাবার বাগান ম্যানেজার ও বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রবিবার দুপুর ১ টায় এক জরুরী সভায় মিলিত হন বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।
তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডের নিখোঁজ ব্যক্তি, রাবার বাগান শ্রমিকদের ছবিসহ তালিকা প্রণয়ন ও স্কুল-মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের ৩ মাসের অধিক অনুপস্থিতিদের তালিকা এবং বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে অপহরন, মুক্তিপন বাণিজ্য, ডাকাতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি জঙ্গীবাদ নির্মূলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি প্রতিটি মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষকসহ সাংবাদিকদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাশরুফ, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ.এম তৌহিদ কবির, ডি.আই.ওয়ান (পরিদর্শক) বাঁচা মিয়া, বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আবু মুসা, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম, সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
জরুরী মতবিনিময় সভা শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নিহত জোবাইরা ও কামালের পিতাকে লাশ গ্রহন ও সনাক্তকরণের জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানা পুলিশের নিকট পাঠানো হয়েছে এবং বাইশারীতে যেন এ ধরনের জঙ্গি সম্পৃক্ততার সাথে কেউ জড়িত হতে না পারে সেজন্য পুলিশকে সহায়তার পাশাপাশি এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিয়ে জঙ্গীদের সহযোগীতাকারীদের চিহ্নিত করার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, আজ থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ২০১৬ সালে চার মাসের ব্যবধানে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা, আওয়ামীলীগ নেতা মংশৈলু মার্মা হত্যা, বাইশারী বাজারে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরনের ঘটনায় আটক ও নিহত জঙ্গীরা জড়িত থাকতে পারে কিনা সে বিষয়ে তিনি এখনো জানেন না। তবে বিষয়টি তিনি মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সীতাকুন্ডে ৪ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ এবং গুলিতে দম্পতিসহ চার জঙ্গির পাশাপাশি এক শিশু প্রাণ হারান। ওই দম্পতি নিহত হওয়ার ঘটনা গনমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেরিয়ে আসে তথ্য। নিহত জঙ্গিদের বাড়ী সনাক্ত হয় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে। তাছাড়া ইতিমধ্যে জহিরুল হক, তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও বোন মনিজয়ারা বেগম নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জঙ্গী আস্তানায় নিহত জোবাইরা ইয়াসমিনের বড় ভাই জিয়াবুল হক। নিখোঁজ জহিরুল হক (২৪) ও মনজিয়ারা (১৬) নিহত জোবাইরা ইয়াসমিনের আপন ভাই ও বোন।

আরও পড়ুন
2 মন্তব্য
  1. Shyamal Tanchangya বলেছেন

    বতর্মান পুলিশ সুপার এর নেতৃত্বে আমরা

  2. Shyamal Tanchangya বলেছেন

    জঈী বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছি.

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।