জটিলতার জটে বান্দরবানের আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন

আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় পাঠদান
একদিকে ভাষাগত জটিলতায় যথাযথ পাঠদান ব্যাহত, অন্যদিকে ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাধ্যে মাত্র তিনটি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্ত্রীরা বই পাওয়ার কারনে মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্ত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, খেয়াং, খুমি, লুসাই, চাক, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, মুরুং ও পাংখোয়া –এই ১১টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস। এর মধ্যে মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা এই তিন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৭ সাল থেকে নিজ মাতৃভাষার পাঠ্যবই পেয়ে আসলেও বাকি ৮টি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্ত্রীরা পাচ্ছেনা নিজস্ব মাতৃভাষার বই। ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন এখনও যেন আদিবাসী শিক্ষার্ত্রীদের জন্য যেন স্বপ্নই।
লামার নুনারবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদ সরোয়ার বলেন, ভাষাগত জটিলতার পাশাপাশি শিক্ষকদের কোন ধরণের প্রশিক্ষন না দেওয়ার কারনে পাঠদান করা যাচ্ছেনা।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৪৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাক- প্রাথমিক শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২২২টি, মারমা ভাষার ২১৮১ টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৪৮৪টি, প্রথম শ্রেণি চাকমা ভাষায় ২৩৬টি ,মারমা ভাষায় ২৫৬৭টি,ত্রিপুরা ভাষায় ৫৮৬টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য চাকমা ভাষায় ২৩৪টি,মারমা ভাষায় ২৬০২টি ও ত্রিপুরা ভাষায় ৬০৮টি সর্বমোট ৯ হাজার ৭শত ২০টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে, তবে এখনও যথাযথ ভাবে বই সরবরাহ করা যায়নি।
থানচি উপজেলার এক অভিবাবক মংচিং মার্মা বলেন, ১১ ভাষাভাষীর মধ্যে মাত্র ৩টিকে বই দেওয়া হলেও পর্যপ্ত প্রশিক্ষন আর স্ব স্ব ভাষাভাষী শিক্ষক না থাকায় মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের শিশুরা।
সূত্র জানায়, সাত উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ২২২ জন চাকমা, দুই হাজার ১৮১ জন মারমা ও ৪৮৪ জন ত্রিপুরা, প্রথম শ্রেণির ২৩৬ জন চাকমা, দুই হাজার ৫৬৭ জন মারমা ও ৫৮৬ জন ত্রিপুরা, দ্বিতীয় শ্রেণির ২০৪ জন চাকমা, দুই হাজার ৬০২ মারমা ও ৬০৮ জন ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজ ভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে।
জেলার রুমার ঘোনাপাড়া চিত্ররত চাকমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উক্যসিং মার্মা বলেন, আমাদের এখানে তিনটি ভাষায় বই দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা ও চাকমা শিক্ষক না থাকায় ত্রিপুরা ও চাকমা শিক্ষার্ত্রীদের পাঠদান করা যাচ্ছেনা।
আরো জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী থাকলে নেই বিভিন্ন ভাষাভাষী আদিবাসী শিক্ষক। এক সম্প্রদায়ের ভাষা অন্য সম্প্রদায় না বুঝার কারনে ক্ষোধ শিক্ষকরা যথাযথ ভাবে পাঠদান করতে পারেনা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে কিছু শিক্ষককে পাঠদানের প্রশিক্ষন প্রদান করা হলেও বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ আদিবাসী শিক্ষক প্রশিক্ষন না পাওয়ার কারনে যথাযথ পাঠদান করতে পারছেনা।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার বই দিয়েছি আমরা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।