জনবল সংকটেও থানচিতে করোনায় সেবা দিতে প্রস্তুত – ডা: ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ

জনবল সংকটে মধ্যেও মনোবল হারায়নি, ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জন্য অন্ততপক্ষে মেডিকেল অফিসার ৯জনের স্থলে কর্মকর্তাসহ ৩জন, নার্স ১২ জনের স্থলে ৩জন,স্বাস্থ্য সহকারী ১৩জনের স্থলে ৭জন কর্মরত রয়েছে। তবুও আমার মনোবল দৃঢ় রয়েছে, করোনা ভাইরাস টেষ্ট সাথে সাথে রেজাল্ট এর ব্যবস্থা, ভ্যাকসিন মজুদ, অক্সিজেন ব্যবস্থা, আইসোলেশন থাকা রোগীদের খাওয়ানো, পর্যাপ্ত পরিমানে গ্লাভস্, মাস্ক, স্যানিটাইজার, হাত ধোয়া, জরুরী রোগীদের রেফার হলে এ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থাসহ করোনা রোগীসহ যাবতীয় রোগী সেবা দিতে বর্তমানে বান্দরবানের থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রয়েছে বলে আজ (১১ এপ্রিল) রবিবার সকালে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন, বান্দরবানে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ। সাক্ষাতকার নিয়েছেন পাহাড়বার্তা’র থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি অনুপম মারমা।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে লকডাউনে সময় করোনা টেষ্ট করেও অনেক দেরিতে রেজাল্ট দিতে পারতো সুতরাং করোনা পজেটিভ রোগীরা ঘুরা ফেরা করে অনেকের নিকট ছড়িয়ে পড়লে বিগত বছরে উপজেলা চেয়ারম্যান, থোয়াইহ্লামং মারমা,নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুল হক মৃদুলসহ মোট ১৮জনের করোনা হয়। কিন্তু চলতি বছরে করোনা টেষ্ট রেজাল্ট আমরা সাথে সাথে দিতে পারবো, যার রেজাল্ট পজেটিভ তাঁকে আইসোলেশানে রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের রয়েছে অক্সিজেন ব্যবস্থা, ভ্যাকসিন (করোনা টিকা) পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে, প্রতিদিন সরকারের নির্দেশ অনুসারে ভ্যাকসিন ইনজেকশন সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের একটি পরিপত্র আমাদের হাতে পৌছেছে, পরিপত্রে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রতিটি ইউনিয়নের ভ্যাকসিন ইনজেকসান সেবা দিতে হবে। থানচি উপজেলার দুই ইউনিয়নের মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, অপরদিকে জনবল সংকট, স্বাস্থ্য কর্মীর অভাব, আমি কর্তৃপক্ষের নিকট এই বিষয়ে আবেদন করেছি ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই পর্যন্ত প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৭৬২ জন,২য় ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার থেকে ২০জন। ভ্যাকসিন ডোজ নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান রয়েছে। অক্সিজেন কনসানটেটর ১টি রয়েছে তাছাড়া সেল্যান্ডার রয়েছে ৯টি, তৎমধ্যে ইমারজেন্সি রোগী থাকলে ও প্রতিদিনের মোট ১১জনকে অক্সিজেন সেবা দিতে স্বক্ষম ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ আরও বলেন, আসন্ন রোজা ও পহেলা বৈশাখ, সাংগ্রাই, বৈসাবি অনুষ্ঠানের সময়ে সরকার ফের কঠোর লকডাউন ঘোষনা দিয়েছে, আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সকল কর্মকর্তা -কর্মচারী পূর্ণ সমর্থণ করি এবং বর্তমানে অবস্থানরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটিতে না গিয়ে, শুধু মাত্র সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে অত্র উপজেলার সকল নাগরিকের জন্য এবং করোনা রোগীদের জীবন বাজি রেখে সেবা দিয়ে যাব বলে অঙ্গীকার বন্ধ।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বীর বাহাদুর (উশৈসিং) ও সিভিল সার্জেন মহোদয়ের নিকট আবেদন করেছেন থানচি মতো উপজেলায় অন্ততপক্ষে প্রয়োজনীয় জনবল পোস্টিং দেয়ার।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।