জমির বিরোধ পাড়ায়, মারামারি বান্দরবান সদর হাসপাতালে

বান্দরবান সদর হাসপতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ইজ্জত আলী ও কামাল উদ্দিন। দুজনই জেলা সদরের তালূকদার পাড়ার বাসিন্দা। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য দুজনই চিকিৎসকের সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন। পরে চিকিৎসক দুই জনের ঘটনার বিবরণ শুনে এক্সরে করতে পাঠান। কিন্ত ইজ্জত আলী ও কামাল উদ্দিন দুজনই এক্সরে শেষে এক্সরেরুম থেকে বের হয়ে যান। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ইজ্জত আলী সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে কামাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কামাল উদ্দিন জানান, খাস জমিতে বসবাস করছি আমরা ১৩ পরিবার। তবে সকলে খাসজমিতে বাড়ি করলেও আমার জায়গাটি খালি রেখে দিই। ২০১১ সালে কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু ইজ্জত আলী ওই জায়গাটি তার দাবি করে আজ আমার উপর হামলা করেছে। হামলায় আমার পিঠে এবং হাতে দাগ পড়েছে। হাসপাতালেও মেরেছে।

এলাকায় জায়গা নিয়ে মারামারিতে ইজ্জত আলীর কপালের এক পাশে ফুলে যায়। হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে ইজ্জত আলী জানান, কথা কাটাকাটি হয়েছে কামালের সাথে। তাকে হাসপাতালে মারধর করিনি। ওই জায়গাটি আমার। আমার সকল ধরনের কাগজ আছে।

ওই এলাকার খাসজমিতে বসবাসকারি বাসিন্দা হাসিনা ও রাশেদা বেগম জানান, এ জমি নিয়ে অনেকদিন যাবত বিবাদ চলে আসছে। এ নিয়ে মামলাও হয়। মামলায় আমাদের পক্ষে রায় দেয় । এরপরও আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ড. মুজিবুল হক জানান, ঘটনা জানার পর দুজনকেই এক্সরে করতে পাঠায় । ইমারজেন্সি কক্ষের সামনে একজন অপরজনকে মেরে চলে যায়। আহত কামাল উদ্দিনের এক্সরে রিপোর্টে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক রিপোর্ট।

বান্দরবান সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এস আই) মিঠুন সিংহ জানান, থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে উভয়পক্ষ থানায় সাধারন অভিযোগ করেছে। সকালে কামাল ওই জায়গায় সীমানা পিলার দিতে গেলে বাঁধা দেয় ইজ্জত আলী । এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। তদন্তে এলাকাবাসী ইজ্জত আলীর বিরুদ্ধে জায়গা জমি সংক্রান্ত অনেক অভিযোগ দিয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।