জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়ক। প্রতিনিয়ত দেখা মিলে একসঙ্গে কুড়ি কিংবা অর্ধ শতাধিক মুরগির পা দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতা কিংবা ব্যবসায়ীরা। ব্যথায় মুরগিগুলো কোঁকাচ্ছে, ছটফট করছে। ব্যবসায়ী বা ক্রেতা কেউ মুরগির এই আর্তনাদ আমলে নেন না। তাঁরা জানেনও না এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আর যাঁরা জানেন, তাঁরাও আইনটি প্রয়োগ করেন না।

জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৪(খ) ধারায় জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ হত্যার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এখানে জীবজন্তু বলতে গৃহপালিত বা আটককৃত জন্তুকে বোঝানো হয়েছে। এই আইনে বলা আছে, ‘কোনো লোক যদি কোনো জন্তুকে এমনভাবে বাঁধিয়া রাখে, যাহাতে জন্তুটি কষ্ট পায় বা জন্তুটি যন্ত্রণা ভোগ করে। এই অপরাধের জন্য এক শত টাকা জরিমানা কিংবা অনূর্ধ্ব তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে।’

এটা যে শুধু দণ্ডনীয় অপরাধ, তা-ই নয়। শিশুদের পাঠ্যবইয়েও এ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক একটি পাঠ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের ৩৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘জীবে দয়া’ নামে পাঠ রয়েছে। এর শেষ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আমরা হাটবাজার থেকে হাঁস-মুরগি কিনে এদের পা ধরে বাড়ি নিয়ে আসি। পা উপরে থাকে। মাথা নিচের দিকে থাকে। ফলে এদের কষ্ট হয়। খুব ব্যথা লাগে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। কাঁদতে থাকে। এটা খুব অন্যায় কাজ…’।

সম্প্রতি উপজেলার ছোট মেরুং সাপ্তাহিক হাটবাজার থেকে ক্রয় করে ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি মুরগি সরবরাহ করেন রমজান আলী। তিনিও পাঁচ-সাতটা করে মুরগি একসঙ্গে উল্টো করে পা বাঁধা অবস্থায় দোকানে সরবরাহ করছেন। মুরগি কষ্ট পাচ্ছে। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ—এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রমজান আলী বলেন, আইন মেনে মুরগি দিতে গেলে অনেক দেরি হবে। বাজারে ভিড় লেগে যাবে, তখন ঝামেলায় পড়তে হবে।

একই জায়গা থেকে মোটরসাইকেলের পেছনে মুরগি উল্টো করে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক ক্রেতা। পেছনে উল্টো করে বাঁধা মুরগি কোঁ কোঁ করছে। তাঁকে থামিয়ে মুরগির সঙ্গে এই নিষ্ঠুর আচরণের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি হেসে বলেন, ‘মুরগিকে আর কীভাবে নেওয়া যাবে। শক্ত করে না বাঁধলে তো ছুটে পালাবে। আলতোভাবে হাতে করে ডানা ধরে নিতে গেলেও তো পা দিয়ে আঁচড় দিতে পারে। শুধু আইন দিয়ে কি সব হয়!’

সচেতন মহলের দাবী, আইন অমান্য হবে এ জন্য নয়, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক কারণেও জীবজন্তুকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা মুস্তফা বলেন বিষয়টি অতিব দুঃখজনক।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।