জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে বান্দরবানে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ সভা
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কৌশল নিয়ে বান্দরবানে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৩ আগস্ট ( বুধবার) সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর সভাকক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ERRD-CHT, UNDP, টঘউচ পরিচালিত Biodiversity Ecosystems Restoration for Community Resilience in CHT (BERCR) উপ-প্রকল্পের অধীনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কৌশল নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হয়।
জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে প্রকল্পের কর্মসূচীর সাথে গণমাধ্যমের সম্পৃক্তকরণ ও সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে এই পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর প্রতিনিধি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ম্যা ম্যা নু মারমা।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম, বন বিভাগ বান্দরবান এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এর নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ইউএনডিপি এর জেলা ব্যবস্থাপক খুশীরায় ত্রিপুরা।
এসময় বান্দরবান জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ইউএনডিপি প্রকল্পের বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে পরামর্শ সভায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ইউএনডিপি জেলা ব্যবস্থাপক খুশীরায় ত্রিপুরা বলেন, ইউএনডিপি ঊজজউ-ঈঐঞ প্রকল্পের মাধ্যমে বন ও পরিবেশ রক্ষায় জেলা পরিষদের সাথে চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছে। এই সকল কার্যক্রমে বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সাথে সমন্বয় ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

সভায় প্রকল্প কার্যক্রম উপস্থাপন করেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা রামবাদু ত্রিপুরা (স্টিভ)। তিনি বাইয়োডাইভারসিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতাধীন বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ১৫০টি পাড়া নিয়ে ৫০টি বাইয়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সাইটস এর প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য উপস্থাপন করেন।
সভায় সাংবাদিক বুদ্ধ জ্যোতি চাকমা পরামর্শ প্রদান করতে গিয়ে বলেন, এইরকম সমন্বয় সভা প্রতি ৬মাস অন্তর অন্তর আয়োজন করলে কার্যক্রম বাস্তবায়নের চিত্র ভালো করে জানা যাবে। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বান্দরবানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকা দরকার।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব আবদুর রহমান বলেন, জুম চাষ নির্ভর জনগোষ্ঠীদের বনের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ঝিড়ির পানি সংরক্ষণ করতে হলে তার চারপাশে এবং উৎসের আশে-পাশে বিশাল আকারে প্লান্টেশন করতে হবে অন্যথায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃক্ষরোপন করে ঝিড়ি সংরক্ষণ সম্ভব নই।
পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, জুমচাষে আগুন নিরোধক লাইন তৈরি ও ঝিড়ি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে জুম কাটার জন্য পাড়াবাসীদের প্রচারনা করার জন্য প্রকল্প টিমদের অনুরোধ করেন।
বান্দবরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয়দের অগ্রনি ভূমিকা পালন করতে হবে এবং এই প্রকল্পের অগ্রগতির জন্য সাংবাদিকদের অবগতি জন্য প্রতি ৬মাস অন্তর অন্তর সমন্বয় সভা করা যেতে পারে।
প্রধান অতিথির প্রতিনিধি ম্যা ম্যা নু বলেন, তানজানিয়া দেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ধারণা কিছুটা হলেও শিক্ষণীয় রয়েছে, সেখানকার বিভিন্ন গোত্র বিভিন্ন প্রাণীর সাথে আত্মীয়তা সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলেই ঐ প্রাণীকে তারা হত্যা বা শিকার করে না। আমাদের এখানে দায়িত্বশীল টুরিজম ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণ, টুরিস্ট গাইড, রিসোর্ট ও গাড়ির মালিক সমিতি প্রত্যেককেই আরো সচেতন হওয়া দরকার। বোতলজাত ও প্লাস্টিকজাত পণ্য সঠিক ব্যবস্থাপনা করা এবং ঝিড়ি বা ঝর্ণা সংরক্ষণে প্রথমত সারভে করা এবং স্থানীয় যুবদের অংশগ্রহণে ঝিড়ি সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা দরকার।



