জোর খাটিয়ে নয়, খাবারের ব্যবস্থা করে বাড়ি পাঠালেন একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

আজ মঙ্গলবার দুপুর একটা বিশ মিনিট। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল সেনাবাহিনীর তিনটি গাড়ি। হঠাৎ করে চলন্ত গাড়ীগুলোর একদম শেষের গাড়ীটি থেমে গেল। একটু পরে পেছনে আসতে শুরু করলো গাড়ীটি। রাস্তায় অযথা ঘোরাফেরা করা পথচারীরা দ্রুত পা চালিয়ে সরে যেতে লাগলো। গাড়ী থেকে নামলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। তাঁর পিছু পিছু আরও কয়েক জন। এমন সময় বাজার থেকে সবুজবাগ এলাকার বাড়ি ফিরছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী প্রতিবন্ধী খোরশেদ আলম। সবাই সরে যেতে পারলেও পায়ের জোর না থাকায় মুখোমুখি হতে হলো রিজিয়ন কমান্ডারের।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান কথা শুরু করলেন প্রতিবন্ধী খোরশেদ আলমের সাথে। জিজ্ঞাসা করলেন, সরকার নিষেধ করার পরও কেন ঝুঁকি নিয়ে সড়কে ঘোরাফেরা করছেন? দুস্থ খোরশেদের সহজ সরল উত্তরে কথা না বাড়িয়ে তার হাতে তুলে দিলেন একটি কাটুন। কাটুনে একটি পরিবারের একসপ্তাহ চলতে পারার মতো খাদ্যশস্য দেয়া আছে জানিয়ে আগামী ৭ দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেন রিজিয়ন কমান্ডার।

শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী খোরশেদ আলমকে নয়, শাপলা চত্বরের বিভিন্ন অলিগলিতে থাকা রিক্সা চালকদের সাথে কথা বলেন রিজিয়ন কমান্ডার। করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ এড়াতে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তাদের হাতেও তুলে দেন ত্রাণভর্তি কাটুন। শাপলা চত্বর ছাড়াও নারিকেল বাগানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গরীব, দুস্থ ও নিন্ম আয়ের মানুষের হাতে তুলে দেন ত্রাণসামগ্রী। সবাইকে অনুরোধ করে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ এড়াতে আগামী ৭-৮ দিন যেতে কেউ ঘর থেকে বের না হোন।

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর মুক্তমঞ্চে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে কেউ যাতে হয়রানি কিংবা অন্যায়মূলক আচরণের শিকার না হোন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেন। এ সময় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।