ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি, তবু প্রস্তুত প্রশাসন: খাগড়াছড়িতে ভোটের মাঠ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এই সব বাস্তবতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও হালনাগাদ ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রভিত্তিক পরিকল্পনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে অনেকটাই সুসংগঠিত করেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ২০৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। নারী ও পুরুষ ভোটারের প্রায় সমান উপস্থিতি জেলায় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মনোনয়ন যাচাই ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে খাগড়াছড়িতে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে শেষ দিনে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে থাকছেন ১১ জন।

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভোটার সংখ্যার দিক থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ৯৮ হাজার ৩৪৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৫০ হাজার ১৫৬ জন এবং নারী ৪৮ হাজার ১৮৮ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দীঘিনালা উপজেলা—ভোটার সংখ্যা ৯৫ হাজার ৫৫ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৯৫ হাজার ২৮২ জন। এছাড়া মহালছড়ি, পানছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা উপজেলাগুলোতে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রতিটি এলাকাতেই নারী-পুরুষ ভোটারের ভারসাম্য বজায় রয়েছে।

NewsDetails_03

জেলা জুড়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২০৩টি। এর মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১২১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এলাকা ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। এসব কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি ও নিবিড় নজরদারির আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড় ও মাটিরাঙ্গা থানার আওতায় থাকা মোট ২০টি সীমান্তবর্তী ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং কেন্দ্রভিত্তিক লজিস্টিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সব মিলিয়ে খাগড়াছড়িতে একটি সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।” তিনি সকল ভোটারকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

নিরাপত্তা, নিরপেক্ষ পরিবেশ এবং স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই প্রস্তুতিকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে একটি উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন ভোটাররা।

আরও পড়ুন