টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভীড় বান্দরবানে

টানা ছুটিতে পাহাড় প্রিয়দের ভীড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী বান্দরবান। জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি, তমাতুঙ্গীসহ সবগুলো দর্শনীয় স্থানে এখন পর্যটকের ভিড়। টানা ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটায় খুশি হোটেল মোটেল রিসোর্টের মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি পাহাড় কন্যা বান্দরবান। পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ছুটি আসেন শত শত পর্যটক। তবে দূর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে টানা ছুটি থাকায় প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বান্দরবানে।

যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে পরিবার পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পর্যটকরা চাঁদের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। জেলার মেঘলা নীলাচল প্রান্তিক লেক শৈলপ্রপাত চিম্বুক নীলগিরি নীল দিগন্ত তমাতুঙ্গীসহ সবগুলো দর্শনীয় স্থান এখন ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে। কেউ বা ছুটে যাচ্ছে ঝর্ণার সৌন্দর্য্য দেখতে, কেউবা ছুটে যাচ্ছে সুউচ্চ পাহাড় কেউক্রাডং-তাজিংডং এর সৌন্দর্য্য দেখতে। অবকাশ যাপনে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা, মনিরুল (৩৪) ব্যবসা করেন। ঢাকা থেকে ৬ জনের দল নিয়ে বান্দরবান ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু কোনো হোটেলে রুম পাচ্ছেন না বলে জানান।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আনিছুর রহমান এসেছে নারায়নগঞ্জ রুপগঞ্জ থেকে। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা লোকেমুখে শুনে বড় ভাইয়ের সাথে বেড়াতে এসেছে। সে জানায়, যা শুনেছে তার চেয়ে অনেক সুন্দর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোটেল হিল ভিউ, হোটেল হিল্টন, হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালি ও লাবাতং হিল রিসোর্টসহ প্রায় সব হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ ৬ ও ৭ অক্টোবরের জন্য সম্পূর্ণ বুকিং নিয়েছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।

লাবাতং হিল রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহাদ সাদিক জানান, ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং থাকবে বলে জানান তিনি।

হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার মো. সুমন জানান, সরকারি ছুটি উপলক্ষে বান্দরবানে পর্যাপ্ত পর্যটক এসেছেন। ফলে আজ ও আগামীকালের জন্য হোটেলের সক কক্ষ বুকিং নিয়েছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এদিকে টানা ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক আশায় খুশি হোটেল মোটেল রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, জেলায় হোটেল- রিসোর্টে অধিকাংশই রুম খালি নেই। তারপরও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টায় করছেন বলে জানান তিনি।

মাইক্রোবাস, জিপ ও পিকআপ মালিক সমিতির পর্যটকদের জন্য গাড়ী বুকিং কাউন্টারের দায়িত্বরত কামাল উদ্দিন জানান, বিকালে বেলায় ২৫০টি গাড়ী পর্যটন স্পট নীলগিরি, চিম্বুক-শৈল প্রপাত ও দেবতাকুম, বগালেক, থানচির-তুমাতুঙ্গি’র উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তারপরও কাউন্টারে গাড়ির জন্য বহু পর্যটককে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

বান্দরবান জোন ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বান্দরবানে বছরব্যাপী পর্যটকদের আগমন ঘটে। সেজন্য পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যটন স্পটসমূহে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। এছাড়াও পেট্রোল পুলিশ ডিউটিতে আছে বলে জানান এ পুলিশের কর্মকর্তা।

জেলায় পর্যটকদের সেবায় রয়েছে শতাধিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গেস্ট হাউস এছাড়াও পর্যটক পরিবহনে রয়েছে ৪ শতাধিক চাঁদের গাড়ী, সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জেলার ২০ হাজার মানুষ পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।