টানা ছুটিতে সবুজ পাহাড়ে গালিচায় আপনাকে স্বাগতম

বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সামনে টানা তিনদিন ছুটি। ভাবছেন কোথায় যাবেন? প্রকৃতি যদি আপনার মনে দোলা দিয়ে থাকে, ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হ্রদ পাহাড় ঘেরা মুগ্ধ জাগানিয়া শহর রাঙামাটি। শীতের সুন্দর সকালে পাহাড় মোড়ানো মেঘের চাদর কিংবা কাপ্তাই হ্রদেও শান্ত জলরাশি আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার সুন্দরতম জগতে। যেতে পারেন আকাঁ-বাকা পথ ধরে মনকাড়ানো সুন্দরের রাণী সাজেক ভ্যালীতে। তাহলে দেরি কেন? রাঙামাটির কিছু হোটেল মোটেল ও পর্যটন স্পট বা কটেজের খোঁজ রইল এখানে

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা হচ্ছে রাঙামাটি। যার প্রাচীনতম নাম কার্পাস মহল। প্রাকৃতিক রুপ-বৈচিত্রে খ্যাতি পেয়েছে রুপের রানী হিসেবে। পাহাড়, নদী ও লেকবেষ্টিত একটি বৈচিত্রময় জনপদ যেখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চগ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বম, খুমি খেয়াং, চাক, পাংখোয়া, লুসাই, সাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস।

দশর্ণীয় স্থান : কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ে, কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল, ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, শুকনাছড়া ঝর্ণা, ধুপপানি ঝর্ণা, মুপ্পোছড়া ঝর্ণা, পেদাটিং টিং, টুকটুক ইকো ভিলেজ, রাইংখং পুকুর, রাজবন বিহার, চাকমা রাজবাড়ি, কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, সাজেক ভ্যালী, নকাবা ঝর্না, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কাট্টলী বিল, তিনটিলা পাহাড়, রাইন্যা টুগুন, বারগি, বরগাংঙ, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, ফুরমোন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি সৌধ, চেঙ্গী সেতু।

কিভাবে যাবেন : ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ হতে, চট্টগ্রামের অক্সিজেন হতে বাসে করে যেতে হবে। ঢাকার বাসগুলো ছাড়ে সকাল ৮টা হতে ৯টা এবং রাত ৮ টা হতে ১০টার মধ্যে। ভাড়া এসি ও নন এসি ভেদে নির্ধারন করা আছে। চট্টগ্রামের অক্সিজেন হতে বাস কিংবা অটোরিক্স করে যাওয়া যাবে। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর বাস ছাড়ে। অটোরিক্স সবসময় পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন: রাঙামাটি শহরে থাকার মত বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। তার মধ্যে হোটেল মতি মহল, নীডস হিল ভিউ, মোটেল জর্জ, গ্রীন ক্যাসেল, নাদিশা ইন্টারন্যাশনাল, টুকটুক ইকো ভিলেজ, হোটেল আনিকা, এ্যাম্বাসেডর, তাজমহল অন্যতম। তবে, বরবাঙ, বারগি কিংবা রাইন্যা টুগুনের নিজস্ব রিসোর্ট রয়েছে। রাঙামাটি পর্যটনের নিজস্ব মোটেল রয়েছে। রয়েছে ছোট ছোট কটেজ। ভাড়াও সাধ্যের মধ্যে।

এদিকে, বিজয় দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিনদিনের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে রাঙামাটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করে রেখেছে লাখও পর্যটক। ফলে, এবার রাঙামাটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হতে পারে ধারনা সংশ্লিষ্টদের। এ কারণে প্রায় শতাধিক বেশি হোটেল, মোটেল ও কটেজের প্রায় ৮০% অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। যদি রাঙামাটি বেড়ানোর ইচ্ছে হয় প্রবল, তাহলে এখনই বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।