ঠাকুরগাঁও থেকে বান্দরবানে এসে কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি

আমার ছেলে কেন লাশ হলো ?

হাতে ছেলের ছবি সম্বলিত ব্যানার। বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সন্তান হারা মা-বাবা। “আমার ছেলে কেন লাশ হলো, আমার ছেলের নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী কোয়ান্টাম কর্তৃপক্ষের বিচার চাই”। এসব লেখা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা। বলছেন, ছেলেকে তাঁরা আর কোনো দিন ফিরে পাবেন না। তবু হত্যার বিচার পেলে কিছুটা হলেও শান্তি পাবে ছেলের আত্মা।

আজ বুধবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ পর্যন্ত বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই দুজন। তাঁরা হলেন, ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়ায় শ্রেয়’র বাবা বুলবুল মোস্তাফিজ ও তাঁর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন। তাঁরা ছেলে মো. শ্রেয় মোস্তাফিজ (১২) হত্যার বিচার চান। শ্রেয় পরিবারের একমাত্র সুস্থ সন্তান ছিলেন, ওর একমাত্র বড় ভাই সুদিন মোস্তাফিজ শাররীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।

শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘আমার ছেলে মেধাবী ছিল। তাকে বিসিএস ক্যাডার বানানোর স্বপ্ন দেখছিলাম কিন্তু লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের অবহেলার কারণে আমার ছেলের অকাল মৃত্যু হয়েছে। স্কুল কৃর্তপক্ষ সে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

বুলবুল মোস্তাফিজ ও শাহনাজ পারভীন জানান, গত ৭জুন জেলার লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের কোয়ান্টামের অবহেলার কারনে সন্তান হারিয়েছি, করোনার কারনে সরকার নির্দেশিত সারা দেশে স্কুল বন্ধ থাকলেও তারা স্কুল খোলা রেখে আমার ছেলের নিরাপত্তা দিতে পারলো না, আমরা ন্যায় বিচার আশা করছি। আমরা একটা মামলা করেছি, মামলা চালাতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে, তারপরও ছেলে হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

শ্রেয় মোস্তাফিজের পিতা বুলবুল মোস্তাফিজ আরো জানান, শিশুর দায়িত্ব নিয়ে তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাই আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। কিভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছেলেটি স্কুল থেকে বের হলো এভাবে মারা গেল, আমরা এর জবাব চাই।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন বান্দরবানের লামায় পানিতে ডুবে কোয়ান্টাম স্কুলের ২ ছাত্রের মৃত্যু হয়। পরে এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে মৃত শিক্ষার্থী শ্রেয় মোস্তাফিজের চাচা জাকির মোস্তাফিজ মিলু বাদী হয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও আবাসিক তত্বাবধায়ককে বিবাদী করে মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।