তরুণের রাজনৈতিক ভাবনা

%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97-%e0%a7%a7শুরু হয়ে গেছে আওয়ামীলীগের ২০তম কাউন্সিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে কিংবা এই স্বাধীন দেশের উন্নয়নে আওয়ামীলীগের অবদান ও ইতিহাস নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। দেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস নিজেই সেই দায়িত্ব নিয়ে রেখেছে। যখনি আমরা জানতে চাই এই দেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস তখনই সামনে এসে যায় আওয়ামীলীগের নাম। আওয়ামী কথা কিংবা শব্দটি এসেছে উর্দু ‘আওয়াম’ থেকে এর অর্থ হলো ‘জনগন’ আর লীগ অর্থ ‘দল’ অর্থাৎ আওয়ামীলীগ অর্থ হলো জনগণের দল বা আমজনতার দল।

১৯৪৯ সাল থেকে প্রতিটি সম্মেলনে দেশ ও জনগণের উন্নয়নের লক্ষে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও মেনিফেষ্টো নিয়ে হাজির হওয়ার চেষ্টা করে উপমহাদেশের এই প্রাচীন দলটি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে উল্লেখ আছে, ‘কোথাও সম্মেলন করার জায়গা না পেয়ে শেষপর্যন্ত হুমায়ুন সাহেবের রোজ গার্ডেন বাড়িটিতে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।’ আর সেই সাথে গঠিত হয় “আওয়ামী মুসলিম লীগ”। প্রথমবার দলটির সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক, আর কারাবন্দী শেখ মুজিব হন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। এর আগেই ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার দায়ে জেলে ছিলেন তিনি। পরে সাধারন সম্পাদক শামসুল হক মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে শেখ মুজিব হন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে সম্মেলনে তিনি সাধারন সম্পাদক হন এবং ১৯৫৫ সালে ধর্মনিরপেক্ষ আমজনতার দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা ঘোষণার পর থেকে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মুজিবই যেন হয়ে উঠেন আইয়ুব সরকারের প্রধান শত্রু ও মুর্তিমান আতঙ্ক। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আওয়ামীলীগের প্রতি বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় উপহারটি হলো দলকে একটি অত্যন্ত শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির উপর দাড় করিয়ে দেওয়া। এজন্যই সম্ভবত অনেক ঝড়ঝাপটা সয়ে টিকে আছে দলটি। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা দলের ঝান্ডা বেশ ভালোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলতে হয়।

আমরা এই দেশের তরুন, আমাদেরও আছে আগ্রহ। তরুণের রাজনৈতিক ভাবনা কিংবা বলি আওয়ামী ভাবনা। বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের সাথে জড়িত উপমহাদেশের প্রাচীন এই দলের কাউন্সিল নিয়ে আমাদেরও আছে আগ্রহ। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। তিনি বারবার দলে তরুণ ও যুবাদের অর্ন্তভুক্তির ব্যাপারে আলোকপাত করছেন যাতে দলে নতুনদের জায়গা হয়, ও দল পোক্ত হয়। সেই সাথে সৎ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বর্জিত অসাম্প্রদায়িক নীতির নতুন কর্মীদের ঠাঁই হয়। আমরা দেখতে চাই যাতে দক্ষিণ এশিয়ার এই পুরানো ও বৃহত্তম সংগঠনটি আরো শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাক। যাতে দেশে স্বাধীনতার চেতনা দৃঢ় হয় ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় মতাদর্শের সংগঠন ও মানুষজন যাতে আরও মাথা উঁচু করে থাকতে পারে।

যদি এই কাউন্সিলে দলের সভানেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তৃণমূল থেকে উঠে আসা, একসময় ছাত্ররাজনীতি করে আসা কিংবা গণমুখী রাজনীতি করা নতুন ও সৎ নেতাদের দেখবো বলে আশা রাখি। দেশের অনেক তরুণের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও একজন রাজনীতি সচেতন তরুণ হিসাবে এই সম্ভাবনাময় দলের কাছে এটা নির্দোষ চাওয়া কিংবা বলা যায় আমার অথবা আমাদের আওয়ামী ভাবনা।

লেখক
আজাদ অভি
আইন বিভাগ
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল: [email protected]

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।