তিনদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন রাঙ্গামাটির ৩ উপজেলা

গত তিনদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে রাঙ্গামাটির তিন উপজেলা বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি। অভিযোগ রয়েছে, আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে বিদ্যুৎ চলে যায়। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাস হলেও বিদুৎ থাকেনা এ তিন উপজেলায়। আবার প্রায় সময় যান্ত্রিক ক্রটির কারনে তিন পেইজের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনে এক পেইজে থাকলেও দুটি পেইজে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকেনা। এছাড়া ঘনঘন লোড শেডিংও লো-ভোল্টেজের কারনে অতিষ্ঠ সাধারন গ্রাহকরা। এসব দেখার মত কেউ না থাকায় বিদ্যুতের এমন অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে তিন উপজেলার ভূক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ।
২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর এ তিন দূর্গম প্রত্যন্ত উপজেলায় ১১ কেভি বিদুৎ সংযোগ লাইন দেয়া হয়। এ বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন উদ্ভোধন করেন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নসরুল হামিদ বিপু এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। কিন্তু কাপ্তাই জল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ৫৫বছর পরে বরকল জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছেনা এসব উপজেলার মানুষ।
জানা যায়, এ তিন উপজেলায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় তিন হাজারে মত। এরমধ্যে বরকলে ৩ শতাধিক, জুরাছড়িতে ১ হাজার ও বিলাইছড়িতে ১হাজার ৫শ গ্রাহক। এসব উপজেলার গ্রাহকরা গত ৩দিন ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ আসেনি। বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা কেরোসিনের বাতি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স মালামাল গুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাসাবাড়ির ফ্রিজে সংরক্ষিত সবধরণের জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন।
জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনির্মল দেওয়ান বলেন, তাদের উপজেলায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এ দু উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
ভূক্তভোগী গ্রাহকরা আক্ষেপ করে জানান,সরকারের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এমন এক প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে অভিযোগ কিংবা লেখালেখি করলেও কোন সমাধান হয়না। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে যেন দেখারও কেউ নেই।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ মজিবুর রহমান মজিদ জানান, কাপ্তাই লিচু বাগান ও চন্দ্রঘোনা এলাকায় ৩৩কেভি লাইনটির যান্ত্রিক ক্রটি হওয়ায় তিন উপজেলায় আপাতত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হবে। ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবাসিক প্রকৌশলী বলেন, বিলাইছড়ি জুরাইছড়ি ও বরকল দূর্গম উপজেলায় যে ১১কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনটি দেয়া হয়েছে তা গ্রাহকদের চাহিদার চাইতে অপ্রতুল। যার কারনে সন্ধ্যার সময় এক সাথে সমস্ত বিদ্যুতিক যন্ত্রপাতি গুলো ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। যার কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ হয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কাপ্তাইয়ের ৩৩কেভি লাইনটি নষ্ট হওয়ায় কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। দূর্গম পাহাড়ী উপজেলা গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় যখন তখন যাওয়া যায়না। ফলে লাইনের ক্রুটি সারতে একটু সময় লাগে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।