তুফান আলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভরসা পরিত্যক্ত ভবন

নাইক্ষ্যংছড়ির তুফান আলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের তুফান আলী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেট ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হলেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে ।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়,অবহেলিত গ্রামের একমাত্র বিদ্যাপিঠটি ১৯৬৭ সালে নির্মিত হয় এবং ১৯৮৭-৮৮ সালে টিনসেট নির্মিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল পাঠদান। তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক পূর্বেই পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। বিগত ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে পিইডিপি-২ এর অধীনে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত টিন সেট ভবনটিতেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সরকার উন্নত ও আধুনিক অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি,করলেও বিদ্যালয়টিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।
ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে পরিত্যক্ত টিনসেট ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বর্তমানে এ ভবনটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অবিভাবকসহ সচেতন মহল। বিদ্যালয়ে নেই কোন নিরাপত্তা প্রাচীর। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক এবং ১৪২ জন শিক্ষার্থী আছে। প্রতিদিন পাঠগ্রহন করে কমপক্ষে ১২০ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল আজিম জানান, বিদ্যালয়টি একটি টিলার উপর স্থাপিত, নেই খেলার মাঠ, প্রবেশ পথটি পিচ্ছিল। যে কোন মূহুর্তে শিক্ষার্র্থীরা দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দূর্ঘটনা রুখতে বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ মেরামত খুবই জরুরী। তাছাড়া বর্তমানে পুরনো টিনসেট ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় বাধ্য হয়ে একটি ভবনের তিন কক্ষে দুই শিফটেই শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাইলাউ চাক বলেন, বিদ্যালয়টি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত, টিনসেট ১ টি পরিত্যাক্ত ভবন সহ পিইডিপি-২ এর আওতাধীন একটি ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রীষ্মেও প্রচন্ড গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পাঠদান করছে অনেক কষ্ট করে । তিনি আরো বলেন, যদি এই পরিত্যাক্ত ভবন ভেঙ্গে নতুন আধুনিক মানের একটি ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য শৌচাগার, নিরাপত্তা প্রাচীর, খেলার মাঠ এবং বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হলে অনেক সুন্দর একটি পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহন করতে পারবে। এর ফলে এই প্রত্যন্ত অবহেলিত গ্রাম্য এলাকার হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ বাড়বে ।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমেদ জানান, পরিত্যক্ত টিনসেট ভবনের বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত কোন আবেদন পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি পুরাতন ভবনটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকৌশলী সহ উক্ত বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিদর্শন না করা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষককে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।