থানচিতে ডায়রিয়ায় ৪ জনের মৃত্যু : আক্রান্ত অর্ধ শতাধিক

বান্দরবানে থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের পাহাড়ী গ্রামে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ৭ জুুন থেকে ১১ জুনের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাড়া প্রধান (কারবারী) ও ১২ বছরে শিশুসহ ৪ জন মারা গেছে। তবে উক্ত এলাকা দূর্গম ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারনে কতজন আক্রান্ত সেই বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছেনা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যাক্তিরা হলেন, উপজেলার রেমাক্রী ইউপি ৬ নং ওয়ার্ডে মেনতাং পাড়া কারবারী (পাড়া প্রধান) মেনতাং ম্রো (৫৫), য়ংনং পাড়ার বাসিন্দা ক্রায়ং ম্রো, রেংহিং পাড়া বাসিন্দা লংঙিং ম্রো, সিংতম পাড়া ১২ বছরে একশিশুসহ মোট ৪ জন মারা গেছে।

থানচি সীমান্তের ১ নং রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৬ -৯ নং ওয়ার্ডে ঙাঁরেসা পাড়া, ম্রাংনং পাড়া, ইয়াংরে পাড়া, ইয়াংব পাড়াসহ ৪-৫ টা পাহাড়ী গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, আক্রান্ত অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারনে পাহাড়ী ঝিড়ি-ঝর্নার পানি পান করা ও পারিবারিক কাজে দূষিত পানি ব্যবহার করার কারনে উপজেলার ৪-৫ পাড়ার অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ গত শুক্রবার চিকিৎসক টিম পাঠানো হলেও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ আনতে হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ঔষধ, স্যালাইন প্যাকেট, অপ্রতুল বলে জানালেন এলাকা স্থানীয়রা।

আরো জানা গেছে,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তাদের স্থানীয়রা ডাইরিয়া প্রাদুর্ভাব এর খবর জানানো পর দ্রুত চিকিসকের টিম পাঠানো হলেও চিকিৎসক টিম যে পরিমান প্রয়োজনীয় ঔষধ, স্যালাইন নিয়ে গেছে সেসব অবশিষ্ট থাকছে না, ফের পাঠানো হচ্ছে প্রয়োজনিয় ওষধ।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, এ পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছে, তবে আক্রান্তের সংখ্যা জানা যায়নি, তবুও পর্যাপ্ত ঔষধ, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, মশারি, ম্যালেরিয়া পরীক্ষা জন্য ডিভাইজ কীট, ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত ঔষধ দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীসহ আমরা ডায়রিয়া মোকাবেলা জন্য প্রস্তুত আছি। তবে দুুর্গম এলাকা বা সীমান্ত অঞ্চল হওয়া আমাদের কর্মীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।