থানচিতে দুইটি সেতু নির্মানে ধীরগতির কারনে ৫ দিন ধরে স্কুল বন্ধ !

থানচিতে বছরের পর বছর ধরে নির্মান কাজ শেষ না করে ফেলে রাখা সেতু
বান্দরবানে থানচিতে ভারী বর্ষণ ও প্রবল বৃষ্টিতে ক্যুটক্ষ্যং ঝিড়িতে দুইটি সেতু নির্মাণ কাজ ধীরগতির কারনে ও পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় কোমল মতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্কুলের যেতে না পারার কারনে টিমং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গত ৫ দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আর কতদিন স্কুল বন্ধ থাকবে তা কেউ জানেনা। স্কুলটি বন্ধ থাকলে ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ অভিবাবকদের ।
স্কুলের অভিবাবক, শিক্ষক,শিক্ষার্থীরা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অর্থায়নের প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬-১৭ অর্থসালে ক্যুটক্ষ্যং ঝিড়িতে দুইটি সেতু নির্মানে বান্দরবানে স্থানীয় ঠিকাদার রিপন ও আবুল খায়ের এবং মিয়া সাব ও হ্লাক্যসাই মারমা পৃথকভাবে যৌথ ঠিকাদার সংস্থাকে বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। ঠিকাদার সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বেঁধে দেয়া সময় সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। থানচি সদর হতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে ও বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সাফল্য অর্জনকে বিভ্রান্ত ফেলার অপচেষ্টা ও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার অপকৌশল হিসেবে ৪ বছরে ও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।
টিমং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্য মনি ত্রিপুরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির হতে ৫ম শ্রেনির পর্যন্ত ১৮০ জন কোমল মতি শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৬০ জন শিক্ষার্থী ও ৪জন শিক্ষক সকলের প্রতিদিন ক্যুটক্ষ্যং ঝিড়িতে পার হয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রায় সময় দুইটি সেতুর জন্য স্কুলে যাওয়ার সম্ভব হচ্ছে না, তাই সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়।
তিনি আরো বলেন, সেতু দুইটি গত ৩ বছর ধরে তাড়াতাড়ি করার জন্য বললেও আমার কথা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা ও সরকারিভাবে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার কোন কর্নপাত করেনি।
বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটি সভাপতি ক্রা প্রু অং মারমা বলেন, ক্যুটক্ষ্যং ঝিড়িতে দুইটি সেতু নির্মানের আমাদের সামনে ময়লা অবর্জনা মিশ্রিত বালির ও পাথর নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দেয়ার পরও ঠিকাদার সংস্থা সময় মতো সেতু নির্মাণ তরেনি, গত শনিবার হতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫দিন স্কুল বন্ধ ছিল।
এই ব্যাপারে থানচি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ আহম্মদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নিজাম উদ্দিন জানান, আমি অসুস্থতার কারনে বাড়ীতে ছুটিতে আছি, বর্তমানে স্কুল ব্যাপারের বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।