থানচিতে নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

ইউপি নির্বাচন

গত ১০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ৪র্থ ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর বান্দরবানের থানচি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যপদ প্রার্থীদের দৌড়ঁঝাপ বেড়ে গেছে, ফলে উপজেলার ইউনিয়নগুলো এখন নির্বাচন কেন্দ্রিক সরগরম।

সুত্রে জানা যায়, এবারে থানচি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে আগামি ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এদিকে তফসিল ঘোষনার পর ১৯ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীক পেতে নিজ যোগ্যতা এবং সমর্থন নিয়ে বান্দরবান জেলা সদরের নেতাদের কছে তদবির করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তফসিল ঘোষনার পর থানচি উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ৪ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্যপদ প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে বহুগুন। চায়ের দোকান আর অলি-গলিতে চলতে নানা আলাপ আলোচনা, কে পাচ্ছেন নৌকার টিকেট? অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃনমুলের নেতাদের বাদ দিয়ে জেলার কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারে ধারে ছুটছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃনমূলের কয়েকজন নেতা বলেন, ভোট দেব আমরা, ভোটারদের ধারে ধারে যাবো আমরা, আমাদের কথায় জনগন ভোট দেবে। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন করলে ভালো হবে, কিন্তু তৃনমূলের মতামত না নিয়ে অহংকারী, জনসমর্থন নেই এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।

তৃনমূলের আরো কয়েকজন নেতা বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার টিকেট পেতে জেলা শহরে অবস্থান করছেন বেশিরভাগ সময়ই, আর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় রয়েছে ফাঁকা, আর এতে দলীয় কর্মসূচী প্রায় সময়ই ঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়,থানচি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১নং রেমাক্রী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুইশৈথুই মারমা রনি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং সাবেক সাধারন সম্পাদক উচমং মারমা, উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মালিরাং ত্রিপুরা নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া একই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চসিংমং মারমা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করার কথা শুনা যাচ্ছে।

২নং তিন্দু ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবকলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি মংপ্রুঅং মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান সিগরাং ত্রিপুরা,যুগ্ন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক থোয়াইসিং মং মারমা, ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ষ্টিফেন ত্রিপুরা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক অলসেন ত্রিপুরা নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া ও উদীয়মান ছাত্র নেতা হিসেবে পরিচিত তিন্দুর কৃতি সন্তান উসাইন মারমা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন।

৩নং থানচি সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও মৌজা হেডম্যান মাংসার ম্রো, পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এর প্রতিনিধি (মন্ত্রী প্রতিনিধি) সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য অংপ্রু ম্রো, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উবামং মারমা, যুবলীগের সহ-সভাপতি চহাইনু মারমা, ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি অন বাহাদুর ত্রিপুরা নৌকা প্রতীকে সরকার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়াও সাবেক ইউপি মেম্বার গত নির্বাচনে স্বল্প ভোটে পরাজিত প্রার্থী ক্রাপ্রুঅং মারমা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে।

৪নং বলিপাড়া ইউনিয়নের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান ইউপি মেম্বার অংসিংম্যা মারমা, সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার সাথুইখয় মারমা, সাবেক ইউপি মেম্বার ও সাবেক সভাপতি নিংলাঅং মারমা, সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি নিহার বিন্দু চাকমা, বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া অং মারমা সরকার দলীয় নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন।

এছাড়াও কাইগ মৌজা হেডম্যান ক্যসাউ মারমা, বলিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মো:জাফর আলী ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষনা দিয়েছেন।

থানচি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষনা অনুযায়ী আগামি ২৩ ডিসেম্বর ৪র্থ ধাপে দেশের ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আগামি ২৫নভেম্বর হতে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ক্রয়, জমাদান বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

৩০ নভেম্বর থেকে ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা আপিল করতে পারবে। ৩রা ডিসেম্বর হতে ৫ডিসেম্বর আপিল নিস্পত্তি করবেন রিটার্নিং অফিসার, আর ৭ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও প্রতিক বরাদ্ধ করা হবে ।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. suman বলেছেন

    জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের দরকার হলে তবেই তো তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দরকার আছে।
    যেখানে ভোটের দরকার হয়না, সেখানে তৃণমূলের মতামতের প্রসঙ্গ আসবে কেন?
    নৌকা মানে, নো নিড পাবলিক ভোট, ডু এনজয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।