থানচি’র দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নারীদের আলোর দিশারী নুচিংউ মারমা

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে থানচি উপজেলা থেকে সম্মাননা পেয়েছেন নুচিংউ মারমা।

গত বুধবার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজা সারোয়ার। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ লুৎফুর রহমান।

বাংলাদেশের সর্বপূর্বের উপজেলা থানচি তথা দুর্গম রেমাক্রি ইউনিয়ন বড় মদকের সীমান্তে নুচিংউ মারমা’র জন্ম। আঁকাবাঁকা ওই সাঙ্গু নদীপথেই তাঁর শৈশব, কৈশোর, প্রাথমিক শিক্ষালাভ ও বেড়ে ওঠা। অজপাড়াগাঁয়ে ছোটবেলায় খেলার সাথীদের নিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধূলা মেতে থাকার সময় কষ্ট কী জিনিস জানতেন না, বুঝতেন না। কষ্ট করে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়ে এখন চলার মতো কিছু আয় করেছি বলে উপলব্ধি করতে পারছে এক টাকা আয় করতে কী পরিমাণ শ্রম দিতে হয়, কষ্ট করতে হয়। সত্যিকার অর্থে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হলে পড়ালেখার পাশাপাশি হস্তশিল্প জানা আবশ্যক।

সম্মাননাপ্রাপ্তির পর নুচিংউ মারমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চাকরির পিছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উদ্যেক্তা হতে হবে। এতে করে নিজে যেমন স্বাবলম্বী হবে তদ্রূপ পারিবারিক, সামাজিকভাবে আপনার সচ্ছলতা বাড়বে। নিজেই উদ্যোগী হোন অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করুন। নারী বলতে এখন আর চার দেয়ালে বন্দি নয়, উদ্যোগী হয়ে সমাজ তথা দেশ ও দশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। তাইতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন,”বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

তিনি একাধারে পুঁতি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, টিস্যু বক্স, আপেল, কলা, বেগুন, নৌকা, ফুলের টব, কলমদানি, বাড়ির সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ঝুলে রাখা ঘণ্টা তৈরির কাজ শিখেছেন এবং এখন পুরোপুরি এসব কাজে পারদর্শী। এছাড়া বাহারি রঙে মোমবাতি বানানোর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। এক ধরনের কাপড় দিয়ে হরেক রকমের ফুল বানাতে পারেন। থানচিতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি চান, উনার এই কাজে অনুপ্রেরণা হয়ে অন্য দশজন নারী ও এগিয়ে আসুক, স্বাবলম্বী ও উদ্যোগী হোক। তিনি তাঁর এই অর্জন স্বর্গীয় পিতা পাইথোয়াইউ হেডম্যানকে উৎসর্গ করেছেন।

এই প্রশিক্ষণগুলো তিনি বাংলাদেশ কুটির শিল্প, বন্ধন সোসাইটি বাংলাদেশ, যুব উন্নয়ন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।