থানচির রেমাক্রী ইউপি নির্বাচনে নৌকা ও আনারসের লড়াই

বান্দরবানে থানচি উপজেলা দুর্গম মোবাইল নেটওয়ার্ক বিহীন এলাকা হিসাবে পরিচিত ১ নং রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাজা ও প্রজার লড়াই হবে বলে ধারনা করছেন সাধারন ভোটাররা।

আওয়ামী লীগের মনোনীত ২য় বারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, রেমাক্রী ইউপি সভাপতি, সিংগাফা মৌজার হেডম্যান, ঠিকাদার,বর্তমান চেয়ারম্যান সরকারী-বেসরকারী ৫টি পদের অধিকারী মুইশৈথুই মারমা রনি। তার সাথে লড়ছেন, আনারস প্রতীক নিয়ে একই ইউনিয়নের সাধারন মানুষের মনোনীত জুম চাষী চসিংমং মারমা।

রেমাক্রী এলাকা স্থানীয়রা জানান, মুইশৈথুই মারমা রনি ১৯৯৭ সালে ছাত্র জীবনের ইতি টেনে পার্বত্য চুক্তির শেষে পার্বত্য জন সংহতি সমিতি জেএসএস এ যোগ দেন। জেএসএস রাজনীতি করার সুবাদে ২০০১ ও ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মংথোয়াইম্যা মারমা রনি’র হাত ধরে ২০১১-১২ সালে জেএসএস রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগের যোগ দেন। আওয়ামী লীগের ৫ বছরের রাজনীতি কালে তৃনমূলের অনেক ত্যাগী নেতাদের ডিঙ্গিয়ে ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে দলের নৌকা প্রতীক দিয়ে বিজয়ী করেন। ফের ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক তাঁর হাতে তুলে দেন।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুইশৈথুই মারমা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন পালন করে যাচ্ছি। তাই জনগনের শত চাহিদা পূরন ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অবাধ সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নির্বাচনে বিজয়ী হবো।

অপর দিকে বড় মদক বাজারে স্থায়ী বাসিন্দা ও স্বপরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে জনসাধারনের সুখে দু:খে, আপদে বিপদে পাওয়া যায় সাধারন পরিবারের সদস্য চসিংমং মারমাকে। ম্যক্যচিং কারবারী পাড়ার প্রধানের ছেলে চসিংমং মারমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচনে দাঁড়াতে উৎসহ দিয়েছে স্থানীয়রা। তাই তাঁকে জনগনের মনোনীত হিসেবে আখ্যা করেন অনেকে ।

রেমাক্রী বাসিন্দা হ্লাথুইপ্রু মারমা বলেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসনে রাজা প্রজা লড়াইয়ে প্রজা জয়ী হয়েছে। তখন রাজা হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনে লড়াই করেন প্রয়াত রাজা কেএসপ্রু, প্রজা হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর বীর বাহাদুর এমপি।

হ্লাথুইপ্রু মারমা আরো বলেন, জনগনের সেবক হিসেবে জনগনের চাহিদা পুরনে অবশ্যই প্রতিফলন হবে। আমরা গত ৫ বছর নির্ভূল জন্ম তারিখ, নাম সঠিক জন্ম নিবন্ধন পায়নি। রেমাক্রী ইউনিয়নের সচীব পাওয়া যায়নি, জাতীয়তার সনদ পাওয়ার জন্য বান্দরবানের যেতে হয়। অনলাইনে সঠিক জন্মনিবন্ধনের জন্য বলিপাড়া ইউনিয়নের সচীবের নিকট ছুটতে হয়। বিগত দিনের শিক্ষা নিয়ে এবার জনগন ভোট দিবে।

রেমাক্রী ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি লালপিয়াম বম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা অত্র এলাকা চাহিদা মোতাবেক বর্তমান চেয়ারম্যান জননেতা মুইশৈথুই মারমাকে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। তাই আমরা ঐক্যবন্ধভাবে বিজয় সুনিশ্চিৎ করতে কাজ করে যাচ্ছি।

অপর প্রার্থী চসিংমং মারমা বলেন, এলাকা স্থায়ীভাবে অবস্থান করে জনগনের চাহিদা পূরনে লক্ষ্য আমাকে জনগন মনোনয়ন দিয়েছে। সুতারাং নির্ভূল জন্মনিবন্ধনের সেবা, সুখে দু:খে পাশে থেকে জনগনের সেবক হিসেবে থাকতে রেমাক্রী ইউনিয়নকে জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ার জন্য জনগন আমাকে অবশ্য বিজয়ী করবেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।