দখল দুষণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র বর্জ নিক্ষেপ ও ফুটপাত বেদখলের কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে পর্যটন শহর রাঙামাটি। এছাড়াও প্রধান সড়কে গবাধি পশুর বিচরণ ও বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় ফেলছে। ফুটপাতের উপর ফেলে রাখা নির্মান সামগ্রীসহ নানা স্থাপনার কারণে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে জনসাধারণ। ফেলে রাখা ময়লা বাতাসে ছড়াচ্ছে দূর্গন্ধ। এ পরিস্থিতিতে অসন্তোষ নগরবাসী হতাশ পর্যটকরাও। ফুটপাত দখল ও অপরিচ্ছন্নতার দায় অনেকটা স্বীকার করে নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ বললেন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে পৌরবাসীকেও আরো সচেতন হতে হবে।

দেশের অন্যতম পর্যটন শহর রাঙামটি। ৬৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শহরটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ক্রমান্বয়ে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়। নানামূখী সুবিধা বাড়লেও পর্যটন শহর হিসেবে এর সৌন্দর্য বাড়েনি। শহরের জনসংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত উন্নয়ন হয়নি রাস্তাঘাট ও ফুটপাতের। স্থায়ী বর্জ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দিন দিন অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে শহর। যত্রতত্র পার্কিং ও ফুটপাতের উপর স্থাপনা রাখায় শহরের সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি নগরবাসীর ভোগান্তিও বেড়েছে। বেওয়ারিশ কুকুর ও গবাধি পশুর বিচরণ নগরবাসীর জন্য নতুন এক বিড়ম্বনা।

শহরের প্রধান ৩টি বাণিজ্যিক এলাকা রিজার্ভ বাজার, বনরূপা বাজার ও তবলছড়ি বাজার এলাকায় বর্জ ব্যবস্থাপনা একেবারেই নাজুক। এসব এলাকার ফুটপাতও অনেকটা বেদখল। ফুটপাতের কোথাও অস্থায়ী দোকান, নির্মান সামগ্রী, দোকানের বর্ধিত অংশ বা ব্যবসায়িক মালামাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও আবাসিক এলাকার গলির মুখে স্থাপিত ডাস্টবিন গুলোও নাজুক অবস্থায়। দিনে একবার পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নির্দিষ্ট কিছু ডাস্টবিন থেকে ময়লা নিয়ে গেলেও আরো বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা পড়ে থাকে বেশ কয়েকদিন। এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা নিয়ে যাবার পর ওইসব এলাকায় দিনভর ফেলা হয় ময়লা। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা হয় বাস, ট্রাক, ভ্যানগাড়ি।

শহরের বনরূপা বাজারের দোকানদার করিম জানান, রাতে পুরো শহরে ফেলা হয় হোটেলের বাসি খাবার ও ময়লা আবর্জনা। এতে কুকুর ও গরুর বিচরণ বেড়ে যায়। দিনের বেলায়ও বাজারে গৃহপালিত গরু বিচরণ করে, যা ব্যবসায়ীদের অতিষ্ট করে তুলেছে।

বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ জানান, পৌর এলাকার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ রক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তথা পৌর কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়। এজন্য তাদের মাঠে নামা উচিত। এ বিষয়ে পৌরসভা কিংবা জেলা প্রশাসনকে ব্যবসায়ী সমিতি সহযোগিতা করবে।

সচেতন পৌরবাসীর অভিযোগ নির্বাচনের আগে প্রত্যেক মেয়র পর্যটন বান্ধব শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ দিনেও তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। শহরের এমন পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়রা ছাড়াও হতাশ হচ্ছেন আগত পর্যটকরা।

রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, পর্যটন বান্ধব শহর গড়তে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সম্মিলিত উদ্যোগে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি স্বীকার করে মেয়র বলেন, স্থায়ী বর্জ ব্যবস্থাপনার জন্য রাঙামাটি শহর থেকে ১ কিলোমিটার দূরে একটি ডাম্পিং স্টেশন করা হবে। পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার জন্য পৌরবাসী ও ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব আছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।