দখল-দূষণে প্রান যায় লামা বাজার পুকুরের

বান্দরবানের লামা উপজেলা শহরের একমাত্র পুকুরটির চারপাশে গড়ে উঠা দোকানপাট ও বসতবাড়ির লোকজনের ফেলা আবর্জনার কারণে পুকুরটি ময়লার ভাগাড় হিসাবে রুপ নিয়েছে। এতে করে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পার্বত্য জেলা পরিষদের ‘বাজার ফান্ডের’ আওতাধীন এ পুকুরটি।

একসময় বাজার ও চারপাশের মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে পুকুরটির পানি ব্যবহৃত হত। কিন্তু পুকুরটি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখন কচুরিপানা ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার এ কারণে চরম পানি সংকটে ভুগছেন বাজার ব্যবসায়ীরা।

এদিকে প্রতিবছরই উপজেলা শহরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তখন পুকুরটির পানি স্বর্গীয় আর্শীবাদ হিসাবে কাজে লাগে। পুকুরটি পুনঃসংসস্কার করে দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী করার দাবী তুলেছেন শহরের দু সহাস্রাধিক ব্যবসায়ীসহ লামাবাসী।

সংশ্লিূষ্ট সূত্র জানায়, লামা বাজার প্রতিষ্টাকালীন সময়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বাজার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আগতদের পানি সংকট নিরসনের জন্য ৪৫শতক জায়গার ওপর পুকুরটি খনন করে। পরবর্তীতে বছর বছর পুকুরটি ইজারাও দেয়া হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে পুকুরটি চার পাশের বসবাসকারী মানুষের ফেলা ময়লা আবর্জনায় পুকুরটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

অভিযোগ ওঠেছে, মুষ্টিমেয় কিছু লোক সুকৌশলে দিন দিন আরো ময়লা-আবর্জনা ফেলে সরকারি পুকুরটি দখল করার পায়তারা শুরু করেছে। এছাড়া আবর্জনায় পরিপূর্ণ এ পুকুরটিকে অনেকেই মশার আদর্শ প্রজননস্থল বলে মনে করছেন। সৃষ্টির পর থেকে দুই-একবার সংস্কার হলেও দীর্ঘদিন পুকুরটি সংস্কার করা হয়নি। তাছাড়া প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ডুবে যাওয়ায় পলিমাটি ও কাঁদায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে পুকুরটি।

পুকুরটি দ্রুত সংস্কারের দাবী তুলে লামা বাজারের ব্যবসায়ী মো. সেলিম, মো. জাকির হোসেনসহ অনেকে জানায়, বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে বারমাসই পানির সংকটে ভুগতে হয়। অর্ধশত বছরের পুরাতন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পুকুরটি এখন কয়েক কোটি টাকা সম্পদে রুপ নিয়েছে। বিধায় কৌশলে কিছু অসাধু মানুষ ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লামা মাছ বাজারের সামনে চতুর্ভুজ আকৃতির পুকুরটি প্রায় ৪৫ শতক জায়গা জুড়ে রয়েছে। পুকুরের পানি ব্যবহারের জন্য দুইপাশে ২টি সিঁড়ি করা হয়েছিল। পুকুরের এক পাশে দোকানপাট আর বাকী তিন পাশে মানুষের বসতবাড়ি। চারপাশের বসবাসকারীরা তাদের সকল ময়লা আবর্জনাসহ টয়লেটের মলমূত্রের লাইন দেয় পুকুরটিতে।

এ বিষয়ে লামা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাপান বড়ুয়া বলেন, বাজারের আগুন লাগলে এ পুকুরের পানিই একমাত্র ভরসা। অথচ অযত্নে অবহেলায় ও ময়লা ফেলার কারণে পুকুরটি বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে। পুনখনন ও সংস্কার করে পুকুরটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার পাশাপাশি সরকারী সম্পত্তি রক্ষার জোর দাবী জানাই।

এই ব্যাপারে লামা বাজার চৌধুরী থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতক জায়গার উপর পুকুরটি অবস্থিত। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় আজ সেটি দুষণ ও দখলের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে পুকুরের পাড়ে বসবাসরতরা কিছু অংশ দখলেও নিয়েছে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, শহরের একমাত্র পুকুরটি পুনঃসংস্কারের প্রয়োজন। এ পুকুরটি ছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের নিত্যদিনের কাজে ব্যবহৃত পানির আর কোন উৎস নেই। তাই এটি সংস্কার খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাস খানেক আগে আমি সরেজমিনে পুকুরটি পরিদর্শন করেছি। চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে পুকুরটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।