দিগন্ত জুড়ে হলুদ সমুদ্র

ধান-পাট ও চায়ের পর অর্থকরী ফসল হিসেবে সরিষার চাহিদা কোনো অংশেই কম নয়। সরিষা ক্ষেতে সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন দৌছড়ি।

সরিষার মহু-মহু গন্ধের সুভাস ছড়িয়েছে গেছে গোটা এলাকায়। সেই গন্ধের টানে ছুটে আসছে মৌমাছিরা। আবার অনেকে সরিষা ক্ষেতের বর্ণিল দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে আসছে। দৌছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ীঞ্চলে সরিষা ক্ষেতের প্রদর্শনীর বাহারি দৃশ্য যেন নজর কাড়ার মত। দৌছড়ি পাহাড়ঞ্চল ঘুরে ফিরে দেখা গেছে খন্ড খন্ড পাহাড়ে সবুজের সমারহ আর নিচে চাষের জমিগুলোতে চাষিরা সরিষা ক্ষেতের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে ।

দৌছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ঞ্চলে এখন সরিষা ক্ষেতসহ নানা জাতের শাকসবজি, আলু, বেগুন, মরিচ, ছিটা পিঁয়াজ, আদা, রসুন, সিম, ধনেপাতা, গাঁজর, কফি, মুলা, লাউ, গম, তিল, তিশি, ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। মাঘের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে সরিষা তোলা হবে। তারপর এসব সরিষা যাবে তেল তৈরির মিল-কারখানায়।

দৌছড়ি ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মুজিবুর রহমান বলেন, এই পাহাড়ীঞ্চলে বাপ-দাদার আমলে শুনেছি সরিষা ক্ষেতের কথা। তবে নিজের এলাকায় কোন দিন সরিষা ক্ষেত চোখে পড়েনি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শিমু রন্ঞ্জন শীলের সহযোগিতায় এলাকার বেশ কয়েকজনকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে পুনরায় সরিষা চাষ শুরু করেছে।

কৃষানি ও মহিলা মেম্বার জায়তুন নাহার বলেন, প্রথমবারের মতো এ বছর ৫০/৬০ শতক জমিতে সরিষা, ৪০ শতক জমিতে ভুট্টা এবং ৪০ শতক জমিতে সবজি চাষ করেছি। সব মিলে ৮০ হতে ১লাখ টাকা লাভ হতে পারে ।

দৌছড়ি বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী কাজল জানান, দৌছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ীঞ্চলের সবজি এবং তরিতরকারির দাম তুলনামুলকভাবে অন্যান্য আবাদের চেয়ে অনেক কম। যার কারণে স্থানীয়ভাবে মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করলে দ্বিগুন লাভ পাওয়া যায়।

তবে পার্বত্য জেলায় উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, যথাযথ বাজারজাত করণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণ ও হিমাগার না থাকার কারনে কৃষকদের শংখা দীর্ঘদিনের। ফলে তারা তাদের পণ্যের ন্যার্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়।

দৌছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবীব উল্লাহ জানান,পাহাড়ীঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে যেসব ফসল উৎপাদন হয় তাতে করে উপজেলা সদরে ২ হতে ৩টি হিমাগার প্রয়োজন। অথচ হিমাগার স্থাপন হয়নি এই উপজেলা। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন থাকায় পাহাড়ীঞ্চল হতে চাষিরা উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছে না।

উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি অফিসার শিমুল কান্তি শীল জানান, দৌছড়ির পাহাড়ীঞ্চল এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ীঞ্চলের বর্ষার মৌসুমে পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানির সাথে মাটি জমে থাকার কারণে অনেক উর্বর। সে কারণে রাসায়নিক সার ছাড়াই বিভিন্ন ফসলের ফলন ভাল হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জমিতে সরিষা চাষ ভালো ফলন হচ্ছে ।

আরও পড়ুন
Loading...