দীঘিনালায় চাষাবাদের ট্রাক্টর এখন ট্রলি !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বেপরোয়া ভাবে চলছে হাল চাষের ট্রাক্টর নামক ট্রলি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করা এসব অবৈধ যানের অবাধ চলাচলের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রাস্তাঘাট,পরিবেশ ও জনজীবন। ঘটছে বিভিন্ন দূর্ঘটনা, সড়কে ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনাও, সমগ্র পরিবেশ ধূলোময় হয়ে যাচ্ছে।

চাষাবাদের জন্য কেনা ট্রাক্টর দিয়ে বানানো হয়েছে এসকল ট্রলি। পরে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ইট, মাটি ও বালি টানার কাজে। লাইসেন্সবিহীন শিশু-কিশোর চালক দিয়ে চালানো হচ্ছে যত্রতত্র। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

জানা যায়, দেশের কৃষি উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করার জন্য এসব ট্রাক্টর বিদেশ থেকে আমদানীর সুযোগ দিচ্ছে সরকার। সরকারি সুযোগ পেয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অবাধে আমদানি করে এসব ট্রাক্টর বিক্রি করে শিল্প, মাটি-বালু, ইটভাটার মালিকসহ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টরের চালকদের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন না থাকায় পরিবহন ব্যবসায়ীরা স্বল্পমূল্যে সহজেই কিনে আনেন এসব ট্রাক্টর। কিন্তু কৃষিকাজের পরিবর্তে পরিবহন কাজে ব্যবহার করায় গ্রাম ও শহরে ব্যাপক হারে বেড়েছে ট্রাক্টরের সংখ্যা। এছাড়াও ট্রাকের চাইতে ট্রাক্টরের ভাড়া কম থাকায় এই বাহনের চাহিদাও কয়েকগুণ।

উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট বিনষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দূর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সহ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অনেকে।

সড়কের দুই পাশে থাকা বাড়ি ও গাছপালা ধুলায় তলিয়ে গেছে। রাস্তার সাথে সাথে চুরমার হচ্ছে ছোট ছোট স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদী খননের মাটি সরকারী কাজে নিয়ে যাওয়াসহ অসাধু ব্যাবসায়ী কর্তৃক কৃষিজমির টপসয়েল, ইট ও বালি ভর্তি ট্রলি বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১৮ বছরের শিশু-কিশোররাই এগুলো ড্রাইভিং করছে। বেপরোয়া গতি ও কানফাটা শব্দে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব ট্রাক্টর মাটি, ইট, বালি পরিবহনে ব্যবহারের কারণে রাস্তা-ঘাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালির কারণে পরিবেশ ও জনজীবনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ট্রাক্টরের বেপরোয়া আওয়াজ ও গতিতে মানুষ অতিষ্ঠ। সার্বক্ষণিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক পথচারী জানান, রোড পারমিশনবিহীন এসব অবৈধ ট্রাক্টর লাইসেন্স বিহীন চালক দ্বারা চালিয়ে রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি মোঃ আবদুর রহমান বলেন, অদক্ষ ট্রলি ড্রাইভার ও বেপরোয়া গতির কারনে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবগত করবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।