দীঘিনালায় বেড়েই চলছে ক্ষতিকর তামাকের চাষ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ক্ষতিকর তামাকের চাষ বাড়ছেই। কিছুতেই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ কমছে না। তামাকে জমি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি জেনেও ঝামেলা কম,আর ধান ও সবজির চেয়ে লাভ বেশি এবং বিক্রিতে কোন ঝঞ্ঝাট নেই বলে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তামাকের চাষ ছাড়ছেন না। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে,তামাক চাষ আগের চেয়ে কমেছে।

ধান ও সবজি ক্ষেতের পাশেই বিষ বৃক্ষ তামাকের চাষ হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে। কৃষকরা বলছে,দেশি ও বিদেশী তামাক কোম্পানী তামাক চাষের জন্য আগে থেকেই দাদনের মত বীজ,সার ও কামলার টাকা অগ্রীম দিয়ে যায়।তাই আমরা প্রতি বছরই তামাকের চাষ করি। তামাক উৎপাদনের পরপরই ওই কোম্পানীর গাড়ী এসে আমাদের ঘর থেকেই নগদ টাকা দিয়ে তামাক নিয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত তামাক খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়।কোন ঝামালো হয় না।

তবে কোন কোন কৃষক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে এই বিষ বৃক্ষের চাষাবাদ বাদ দিয়েছেন। উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকার ফসলি মাঠে ব্যপকহারে এই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ হচ্ছে। এসব অঞ্চলে কোণভাবেই দীর্ঘদিন এর আবাদে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জমির ক্ষতিকর প্রচারনা চালায়েও তামাকের আবাদ কমানো যাচ্ছে না। অথচ প্রকাশ্যে তামাকের ব্যবহারে জরিমানা করার বিধান থাকালেও প্রশাসনিকভাবে এর প্রয়োগ নেই বলে তামাকের চাষ ও ব্যাবহার কমছেনা বলে এর ভুক্তভোগী অভিজ্ঞমহল মতামত ব্যাক্ত করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তনয় তালুকদার জানান,তামাক চাষী,শ্রমিক ও তামাক সেবনের ফলে প্রত্যেকের শ্বাস কষ্ট,করোনা মারাত্বক ঝুঁকি ও ক্যান্সার হবেই। সুতরাং তামাককে না বলুন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছরই তামাকের আবাদ কমছে।

আরমাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তামাক চাষে জমি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতিকর কথা বুঝাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে মোটামুটি কাজ হচ্ছে। তবে কৃষকরা অন্যসব ফসলে ন্যায্য দাম পেলে ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে ফিরে আসতো৷

তবে অভিজ্ঞ মহলের দাবী সরকার ও কৃষি বিভাগ করাকড়ি আইন করে তামাকের চাষ বন্ধ না করলে,এই বিষ বৃক্ষের আবাদ কমবে না।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।