দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছে বান্দরবানের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজা
ঘনিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব র্দূগাপূজা। জগৎজ্জননী মায়ের আগমনে মাতৃভক্ত সন্তানদের হৃদয়ে চলছে আনন্দধারা। এই আনন্দকে সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে সারা দেশের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও চলছে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বিশ্বজুঁড়ে মাতৃবন্দনার পরম আনন্দর্বাতা নিয়ে আসছে শারদীয়া দুর্গোৎসব। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বান্দরবানের সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও মাতবে দুর্গতিনাশিনি মা দূর্গার আরাধনায়। মা দেবীকে বরণ আর তার আরাধনায় জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে পূজার মন্ডপ প্রস্তুুতি, প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ ,আর তাই শেষ মহুর্তে ব্যস্ত সময় কাটাছে প্রতিমা কারিগর ও সাজসজ্জকারীরা। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় পূজা এই দূর্গাপূজা, তাই দেবী দূর্গাকে আহবান আর শান্তির প্রত্যাশায় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
বান্দরবান জেলায় এবার সব মিলিয়ে পূজামন্ডপ হবে প্রায় ২৭ টি। যার মধ্যে শুধু জেলা সদরেই মন্ডপ হবে ১১টি। স্থানীয় রাজার মাঠেই তৈরি করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় মন্ডপ। ব্যায় করা হচ্ছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দূর্গাদেবীর প্রতিমা ছাড়াও তৈরি করা হচ্ছে নজর কারা বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। অনুষ্ঠান সুন্দর ও সফল করতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিও সেরে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবান কেন্দ্রীয় দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, আসন্ন শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে,আশা করি আগামী ২৬ তারিখ থেকে মহাআনন্দের সাথে আমরা এই উৎসব পালন করতে পারবো।
এবারের পূজায় আইনশৃংখলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন পুলিশ সুপার। বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, বান্দরবান একটি শান্ত এলাকা আর এখানকার সকলের মধ্যে শান্তি আর সম্প্রীতি বহমান, আর সনাতন ধর্মালম্বীদের এই পূজাকে ঘিরে বান্দরবানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ।
বান্দরবান কেন্দ্রীয় দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাশ রাজেশ্বর জানান,এবারে দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকায় আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশা করি আমরা জাকজঁমক একটি পূজা উদযাপন করতে পারবো। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যদি ভালো থাকে তাহলে কোন ধরনের অসুবিধা হবে না।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং এমপি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই ডিজিটাল লাইটিংয়ের মাধ্যমে মহামায়ার আর্বিভাব ও দেবতা কর্তৃক অস্ত্রপ্রদান প্রদর্শনী, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাঁচদিনের এই উৎসব আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এই শারদীয়া দুর্গাপূজার সমাপ্তি হবে ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।